ছাত্রত্ব নেই, ৪ বছরের স্নাতক পড়ছেন ৯ বছর ধরে

৪ বছরের স্নাতক কোর্স পড়ছেন ৯ বছর ধরে,তবুও পেরোতে পারেননি স্নাতকের গন্ডি, বলছিলাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির মাহফুজ মাসুদের কথা। এদিকে তার ছাত্রত্ব নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে।

যথাসময়ে মান উন্নয়ন পরীক্ষা না দেওয়ায় পদ্ধতিগত ভাবে তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রবিউল ইসলাম।

জানা যায়, তৌকির মাহফুজ ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে প্রতিবন্ধী কোটায় ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। তার রোল নং ১০১০১০৯। তিনি ছিলেন ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক , এছাড়া বর্তমানে ইবি ছাত্রলীগে বিদ্রোহী ও পদবঞ্চিত গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি আলোচিত।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তৌকির মাসুদ ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হলেও স্নাতক চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়েছেন ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সাথে। এদিকে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ বর্ষ স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষা-২০১৫ এর ফলাফলে দেখা যায়, তিনি ১০৬ নম্বর কোর্সে অকৃতকার্য হয়েছেন। পরবর্তীতে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ বর্ষ মান উন্নয়ন (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষা ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তৌকির মাহফুজ, এ মান উন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি এবং নম্বর পত্রে তার নামও পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে সে বিশেষ মান উন্নয়নের জন্য আবেদন করলেও বিভাগ সূত্রে জানা গেছে একাডেমিক কাউন্সিলে তা গৃহীত হয়নি।

এ বিষয়ে তৌকির মাহফুজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ১০-১১ সেশনে ছিলাম পরে আমি আবার পুনরায় ভর্তি হয়ে ১১-১২ এর সাথে ফাইনাল পরীক্ষা দেই। ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার পরে দেখা গেছে আমার একটা সাবজেক্টে ফেল আছে। ঐ সাবজেক্টের পরীক্ষা দেয়ায় জন্যে আমি ডিপার্টমেন্ট বরাবর একটি আবেদন করছি। ঐটা হচ্ছে যে, একটা সাবজেক্টে পাশ করলে, আমার রেজাল্ট বের হয়ে যাবে। তিনি (শ্রবণ) প্রতিবন্ধী কিনা মুঠোফোনে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং এ প্রতিবেদকের সাথে সাক্ষাতে কথা বলতে চান।

এবিষয়ে ইংরেজি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্দিষ্ট সময়ের ভেতরে মান উন্নয়ন দিতে না পারায় তার একটি পরীক্ষার জন্য সে বিশেষ মান উন্নয়নের জন্য আবেদন করেছিলেন পরে সে বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলে গৃহীত হয়নি।

এ বিষয়ে উপাচার্য ড. রাশিদ আসকারী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবহিত হয়েছি, পরবর্তীতে খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর