২৪ নভেম্বর শেরপুরের সূর্যদী গণহত্যা ও প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস

আজ ঐতিহাসিক ২৪ নভেম্বর ‘শেরপুর গণহত্যা ও প্রতিরোধ যুদ্ধ’ দিবস। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের সন্ধিক্ষণে এদিন শেরপুর জেলার সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের সূর্যদী গ্রামে এদেশীয় দোসর আলবদর, রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে এক নারীসহ ৪৭ জন শহীদ হয়েছিলেন। শহীদদের মধ্যে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা বানিয়াপাড়া গ্রামের আইজ উদ্দিন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আফছার আলী, আক্তারুজ্জামানসহ একই পরিবারের সাত সহোদর। এদিনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য দিন।

জানা যায়, সূর্যদী গ্রামটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম আশ্রয়স্থল। ইয়াদ আলী খান (বর্তমানে মৃত) নামে এক রাজাকার কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়ের বিষয়টি পাক বাহিনীকে জানিয়ে দেন। এর ফলে সূর্যদী গ্রাম ছিল পাক বাহিনীর টার্গেট। ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর সকাল সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে পাক বাহিনী পূর্ব পরিকল্পনা ও নীল নকশা অনুযায়ী শেরপুর থেকে বানিয়াপাড়া গ্রামে প্রবেশ করে। গ্রামে প্রবেশ করেই মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা আইজ উদ্দিনকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে এবং মুক্তিবাহিনী কোথায় আছে জানতে চায়। কিন্তু তিনি মুক্তিবাহিনীর অবস্থান জানাতে অস্বীকার করলে এক পর্যায়ে পাক সেনারা তাঁকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে।

২৪ নভেম্বরের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও কামারিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. হাসমত আলী জানান, সকাল দশটার দিকে পাক বাহিনী এ এলাকায় পুরোদমে অপারেশন শুরু করে। প্রচন্ড গোলাগুলির শব্দে চারদিক প্রকম্পিত হয়। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুনসুর তখন ভূরদী গ্রাম থেকে তাঁর বাহিনী নিয়ে পাক সেনাদের মোকাবেলা করতে এগিয়ে যান সামনের দিকে সূর্যদী গ্রামে। তখনকার দিনে প্রকাশ্য দিনের বেলায় শেরপুর জেলায় একটিই যুদ্ধ হয়েছিল, সেটি হচ্ছে এই ‘সূর্যদী যুদ্ধ’।

পাক বাহিনীর তান্ডবে সেদিন এক পরিবারের সাত সহোদরসহ ৪৭ জন নিহত হন। ওই যুদ্ধে আমেনা খাতুন নামে এক নারী নিহত হয়েছিলেন। এ গণহত্যায় যাদের নাম পাওয়া যায় তারা হলেন, সূর্যদী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আক্তারুজ্জামান, খুনুয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আফছার উদ্দিন, সূর্যদী বানিয়া পাড়া শহীদ আইজউদ্দিন, সূর্যদী মধ্য পাড়া শহীদ ফরমাইল হোসেন, শহীদ আঃ জব্বার (১), শহীদ মোহাম্মদ আলী, শহীদ ইয়াদ আলী, শহীদ আলমাছ উদ্দিন, শহীদ মুস্তাজ আলী, শহীদ হাছেন আলী, শহীদ মুনছুর আলী, শহীদ মোজাম্মেল হক (মোজা), শহীদ জোনাব আলী, শহীদ আঃ জব্বার (২), শহীদ সেগা সেক, শহীদ মকবুল হোসেন, নিজ আন্ধারিয়া শহীদ আমেনা খাতুন, শহীদ জুলহাস উদ্দিন, শহীদ আঃ সামাদ, আন্ধারিয়া শহীদ আঃ রশিদ, সূর্যদী পূর্ব পাড়া শহীদ মোহসীন আলী, পাকুড়িয়া তিরছা শহীদ ফজর আলী, সূর্যদী মধ্য পাড়া শহীদ হুরমুজ আলী, পাকুড়িয়া তিরছা শহীদ নবীর উদ্দিন, শহীদ সাহাব উদ্দিন, শহীদ সাহাবাজ আলী, শহীদ পচা সেক, শহীদ মফিজ উদ্দিন, শহীদ আবেদ আলী, শহীদ ফজি সেক, সূর্যদী দক্ষিণ পাড়া শহীদ কদর আলী, শহীদ সমেশ আলী, শহীদ সামছুল হক, শহীদ রিয়াজ উদ্দিন, শহীদ ফকির মামুদ, শহীদ জবেদ আলী, চক আন্ধারিয়া শহীদ রিয়াজ উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, কাইদ্যা (নকলা) আঃ ছাত্তার । এছাড়াও পাক বাহিনী সেদিন প্রায় একহাজার ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল এবং নাম না জানা অনেক নারীকে ধর্ষণ করেছিল।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর