মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন শামীমকে (৪০) কুপিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। প্রাণনাশে ব্যর্থ হয়ে ওই ব্যবসায়ীসহ দৈনিক কালের কণ্ঠের সিঙ্গাইর ও হরিরামপুর প্রতিনিধি মোবারক হোসেনসহ ৬ নিরাপরাধ ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা করার অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৬ নভেম্বর উপজেলার ফোর্ডনগর গ্রামের মৃত নবু খানের ছেলে নাজির খান থানায় এমামলা করেন। মামলার এজহার ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে গত ১৫ নভেম্বর সিঙ্গাইর ফোর্ডনগর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও এলিগ্যান্স ফার্ণিচারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন শামীমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা করে উপজেলার ফোর্ডনগর গ্রামের নাজির খাঁন ৩৮) বক্কার খাঁন (৪০) ও আলম খাঁন (৫০) ও তাদের স্বজনরা।
ধারালো অস্ত্রের আঁঘাতে শামীমের মাথা ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় মাহবুব খান নামে আরো এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তারা ঢাকাস্থ সমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
হত্যাচেষ্টার শিকার ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন শামীম বলেন, আমাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনা অন্যদিকে প্রভাবিত করার জন্য নিজেদের খাবার হোটেল ভাঙচুর করে নাজির খান ও তার স্বজনরা। পরে আমাকেসহ ছোট ভাই শ্যামল ও ভাতিজা রনি, স্বজন মোশারফ হোসেন, মো: আরিফ খাঁন, সাংবাদিক মোবারক হোসেনকে আসামী করে থানায় মিথ্যা মামলা করা হয়।
এদিকে শামীমকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তার বাবা মো: মোস্তফা মিয়া বাদি হয়ে নাজির খান, বক্কার খাঁন, আলম খাঁন, রবিন খান, রুবেল খান, খোকন খান ও সাগরসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫-৬ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেছেন।
ঘটনার প্রত্যেক্ষদর্শী ব্যবসায়ী আবু সালাম, স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল খান ও সাবেক ইউপি সদস্য মরিয়ম আক্তার জানান, শামীমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করে নাজির খাঁন ও তার ভাই ভাতিজরা। হত্যা করতে ব্যর্থ হয়ে নিজেদের খাবার হোটেল ভাঙচুর করে থানা পুলিশ খবর দেয় তারা। হত্যাচেষ্টার শিকার শামীম ছাড়া নাজির খাাঁনের করা মামলার অন্য কোনো আসামী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
সাংবাদিক মোবারক হোসেন বলেন, ঘটনার দিন বড় ভাইয়ের মেয়ের বিয়ে ছিল। সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলাম। ঘটনাটি ঘটে এদিন সন্ধা সাড়ে ৫টার দিকে আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দুরে। তখন আমি বাড়ির পাশে মসজিদে নামাজ আদায় করছিলাম। পরে মুঠোফোনে তথ্য সংগ্রহ করে এঘটনার সংবাদ প্রকাশ করি। পরের দিন শুনি নাজির খানের দায়ের করা মামলায় আমাকে আসামী করা হয়েছে।
মামলার বাদি নাজির খান বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় ইকবাল হোসেন শামীম ও তার লোকজন আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করেছে। সাংবাদিক মোবারক হোসেনকে কেন এঘটনায় আসামী করা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, শামীম ও মোবারক পরস্পর আত্মীয়। এব্যাপরে যেন লেখালেখি করতে না পারে সেজন্য তাকে আসামী করা হয়েছে।
থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আব্দুর সাত্তার মিয়া সাংবাদিকদের জানান, এঘটনায় উভয়পক্ষের দুটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আমি থানায় নতুন এসেছি। মামলার আসামী মোবারক আর সাংবাদিক মোবারক যে একই ব্যক্তি বিষয়টি বুঝতে পারিনি।
ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট না থাকলেও তাকে কেন আসামী করা হলো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ মিথ্যা প্রমানীত হলে মামলার বাদী নাজির খাাঁনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তাবাজার/এমকে