সাভারে নদীর পাড়ে বালুমহাল, ড্রেজারের পাইপে খেয়াঘাটের কর্মকান্ডে অচলাবস্থা

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকায় বংশীর পাড়ে বালুমহাল গড়ে ওঠায় নয়ারহাট খেয়াঘাটের কার্যক্রম হারাচ্ছে এর স্বাভাবিক গতি। নয়ারহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন পন্য জলপথে এসে এই খেয়াঘাট থেকে খালাস হয়। কিন্তু এখানে কয়েকটি ড্রেজার বসানো থাকায় এর স্টিলের পাইপ অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করায় পন্য খালাস প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত হবার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নদী পারাপারেও বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) সরেজমিন নয়ারহাটের ওই স্থানে গেলে জানা যায়, রাসেল এবং রকি দেওয়ান নামের দুই ব্যক্তি বংশী নদীর তীরে ড্রেজারের মাধ্যমে পাইপলাইনের দ্বারা ট্রলারে আসা বালু এখান থেকে নামিয়ে ব্যবসা করছেন। নয়ারহাট খেয়াঘাটে ড্রেজার মেশিন বসানো। তবে রাসেল নামের ব্যক্তি রকি দেওয়ানের থেকে অপেক্ষাকৃত মোটা পাইপ ব্যবহার করে নদীর তীরেই বালুর ‘ডাম্পিং প্লেস’ বানিয়েছেন। আর একটি অফিসও রয়েছে সেখানে। তবে রকি দেওয়ান তার ব্যবহৃত ড্রেজারের পাইপ দিয়ে নদীর তীর থেকে রাস্তা ঘেঁষে নয়ারহাট বাজারের এক অংশের ভিতর দিয়ে বাজারের দক্ষিণ দিক থেকে অনেক দূর গিয়ে তার নিজের মালিকানাধীন জায়গায় বালু ফেলছেন।

খেয়াঘাটে ট্রলার থেকে পন্য খালাস করা দুইজন শ্রমিক জানান, এই ড্রেজারের পাইপ মাথার উপর দিয়ে নেয়াতে আমাদের মালামাল মাথায় করে খালাস করতে সমস্যা হচ্ছে। সরেজমিন দেখা যায় যে রাসেল নামের ব্যক্তির ব্যবহৃত ড্রেজার পাইপ নদীতে বসানো ড্রেজার থেকে উঁচু করে রাস্তায় নেমে এসেছে। আর খেয়াঘাটের চলাচলের পথটিও এই পাইপের ঠিক নীচে।

এব্যাপারে মুঠোফোনে রকি দেওয়ানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নদীর পাড়ে নদীর জায়গায় বালু ফেলছি না কিংবা নদীর জায়গাও দখল করিনি। আমার ক্রয়কৃত বালু ট্রলারে করে আসে এবং আমি খেয়াঘাটের ইজারাদারকে ট্রলার প্রতি ২৫০ টাকাঘাটের খাজনা দিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা করছি। আর এই বালু ড্রেজার পাইপের মাধ্যমে রাস্তার উপর দিয়ে নয়ারহাট বাজারের ভিতর দিয়ে আমার নিজের জায়গায় ফেলি। আমার ড্রেজার পাইপের কারণে পণ্য খালাস করায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

এদিকে, বংশী নদীর নয়ারহাট এলাকার পাড়ে রাসেল নামের ব্যক্তির বালুমহাল সংলগ্ন অফিসে গেলে অভিযোগের ব্যাপারে তিনি জানান, আমি শুধু ড্রেজার ভাড়া দিয়েছি। আর এই যে জায়গায় বালু ফেলছি তা পাথালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ান এবং তার ভাগ্নে মোয়াজ্জেম হোসেন এই দু’জনের থেকে ভাড়া নিয়েছি।

তবে নদীর তীরের জায়গা কীভাবে কেউ ভাড়া দিতে পারে কিংবা তিনি কিভাবে নিতে পারেন এই প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেন নাই ড্রেজারের মালিক রাসেল।

মুঠোফোনে পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ানের কাছে তিনি বংশী নদীর তীরের ওই জায়গা রাসেলকে ভাড়া দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কাউকে কোনো জায়গা ভাড়াও দেই নাই এবং নয়ারহাটের বালুর ব্যবসার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তবে মোয়াজ্জেম হোসেনের সাথে যোগাযোগ না করতে পারায় এব্যাপারে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে, নয়ারহাটের উত্তরদিকে বংশী নদীর তীরে ধামরাইয়ের ইসলামপুরের মোঃ শহীদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি নদীর তীরে নদীর জায়গায় নতুন একটি বালুমহাল তৈরী করেছেন। নদীতে ড্রেজার বসানোর কাজ শেষ, চলছে ট্রলার থেকে বালু উত্তোলন যা ফেলা হচ্ছে নদীর জায়গায়। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় এব্যাপারে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখবো এবং মাটি ও বালু ভরাট আইন ২০১০ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের নদী আইনে বলা আছে, নদীর ধার থেকে ৩০০ ফুট পর্যন্ত জমি কোন ব্যক্তি মালিকানা থাকলেও সেই জমি নদীর। এই আইনের সরাসরি লঙ্ঘন করে আশুলিয়ার নয়ারহাটে বংশী নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ওই বালুমহালগুলো কতটা আইনসিদ্ধ সেই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর