চাঁদার হিসাব না করে জনকল্যাণের কথা চিন্তা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলে বক্তৃতাকালে যুবলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি করে অর্থ উপার্জন করে আন্তর্জাতিক বড় বড় ব্র্যান্ডের জিনিস পরে ঘুরতে পারেন। এতে হয়ত আত্মতুষ্টি পাওয়া যেতে পারে, মানুষ চেয়ে চেয়ে দেখতে পারে, কিন্তু মানুষের কাছে সম্মান পাওয়া যায় না।’
এর আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনের সভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে এবং উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন যুবলীগ নেতারা। সকাল ১১টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে কংগ্রেসের উদ্বোধন করেন সংগঠনটির সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, ‘দেশ গড়তে প্রয়োজন যুবসমাজের মেধা কাজে লাগানো। কিন্তু ৭৫ এর পর যুবসমাজকে বিপথে ঠেলে দেওয়া হয়। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে শুরু করে।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘যুবসমাজকে বঙ্গবন্ধুর ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। তাহলেই লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে ওঠে কীভাবে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করা যায় শিখতে পারবেন। আমাদের সবাইকে এ কথাটা মনে রাখতে হবে-ভোগে নয় ত্যাগেই হচ্ছে মহত্ত্ব। কী পেলাম না পেলাম সেটা বিবেচ্য নয়। কতটুকু দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে পারলাম সেটাই দেখার বিষয়।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে কী করতে পারলাম সেই চিন্তা যাদের মাথায় থাকে তারা রাজনীতিতে সফল হতে পারেন।’
তিনি বলেন, দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত দুর্নীতি-জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত করার জন্য আমরা অভিযান চালাচ্ছি। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। সন্ত্রাস-দুর্নীতি জঙ্গিবাদ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে সে রেহাই পাবে না। তাকে যেকোনো মূল্যে শাস্তি পেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যুবকরাই মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। এ দেশ গড়ে তোলার দায়িত্বও যুবকদের। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন কোনো যুবনেতার বদনাম না হয়। যুবকদের অবশ্যই দেশের জন্য কাজ করতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল ক্ষমতা ভোগের জন্য নয়, এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে দেশের মানুষ যেন দুমুঠো খেয়ে-পরে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারে সে জন্য যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা হয়েছে। ক্ষমতা ভোগদখলের জন্য নয়। ক্ষমতা হলো মানুষকে কিছু দেয়ার জন্য। ইতঃপূর্বে ক্ষমতাকে যারা ভোগদখল হিসেবে ব্যবহার করেছে তারা দেশের মানুষকে কিছু দিতে পারেনি।
তিনি উল্লেখ করেন, আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করি বলেই ১০ বছরে মানুষকে অনেক কিছু দিতে পেরেছি। যারা ২৯ বছর রাষ্ট্র চালিয়েছে তারা কি দিতে পেরেছে? জনগণকে কিছু দিতে হলে দেশকে ভালোবাসতে হয়। যারা দেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না তারা দেশকে কিছু দিতে পারে না।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি