প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও তৎপরতায় ব্যর্থ হলো চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণে আনা একের পর এক স্বর্ণ ও বিদেশি সিগারেটের চালান খালাসের অপচেষ্টা।
বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিভিন্ন সময় স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রা, মোবাইল সেট, মদ, সিগারেটের মত বস্তু বা পণ্য চোরাচালানের ঘটনা বহু পুরাতন ও পরিচিত হলেও বর্তমানে একটু বিশেষ রূপ ধারণ করেছে। চলতি মাস নভেম্বরেই মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ঘটেছে দুই দুইবার ৭০ পিস স্বর্ণের বার ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট আটকের ঘটনা।
চলতি বছরের নভেম্বর মাসের ৮ তারিখ হতে আজ ২২ নভেম্বর পর্যন্ত দুই দুই বার সাড়ে চার কোটি টাকা মূল্যের ৭০ পিস স্বর্ণের বার ও বিদেশি সিগারেট যথাক্রমে ১৩৬ কার্টন ও ২৯ জন যাত্রীর লাগেজ থেকে ৭ হাজার ১৮৩ মিনি কার্টন সিগারেট উদ্ধার করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও এন এস আই কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ৮ই নভেম্বর (শুক্রবার) সকাল ১০টার দিকে শারজাহ থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আসা এয়ার এরাবিয়া জি ৯-৫২৮ ফ্লাইটের মোহাম্মদ আবু আল হাসান নামের এক যাত্রীর লাগেজ থেকে ডানহিল ব্রান্ডের ১৩৬ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করেন এনএসআই এর কর্মকর্তারা।

তার মাত্র দুই দিন পর ১১ই নভেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স করে আবুধাবি হতে আগত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান খান (৩২) নামের এক যাত্রীর নিকট হতে চার্জ লাইটের ব্যাটারির স্থানে লুকিয়ে আনা ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ৭০ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।যার বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।

যার মাত্র দশ দিন পর আজ ২২ নভেম্বর আবার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক যাত্রী আগমন কমপ্লেক্সের টয়লেট হতে পরিত্যক্ত অবস্থায় একই আকার ওজন ও সমমূল্যের আরো ৭০ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এর আগে আজ শুক্রবার (২২ নভেম্বর) ভোরবেলা মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ১৩৮ ফ্লাইটে আসা ২৯ জন যাত্রীর কাছ থেকে কোটি টাকার ৭ হাজার ১৮৩ মিনি কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।
কাস্টম হাউস চট্টগ্রামের উপ কমিশনার মোহাম্মদ রিয়াদুল বলেন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে অবতরণ করা বিমানের ওই ফ্লাইটে আসা ২৯ জন যাত্রীর লাগেজ থেকে ৭ হাজার ১৮৩ মিনি কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ঘনঘন এমন স্বর্ণ ও সিগারেট চোরাচালান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চোরাচালান কারবারিদের একটি বিরাট চক্র রয়েছে। যারা দীর্ঘদিন যাবত নানান কৌশলে বিমানবন্দর দিয়ে এসব স্বর্ণ ও সিগারেট আমদানির চেষ্টা চালাচ্ছে এবং চোরাচালানই হচ্ছে তাদের একমাত্র পেশা। তবে বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই’র সচেতনতার দরুন তাদের কোন চালান পাড় করা সম্ভব হয়নি। তাই তারা দিশেহারা হয়ে একের পর এক স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। চোরাচালানের এই চক্রটির সাথে জড়িতদের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থাও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন সক্রিয় ও সচেতন আছে বিধায় কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ ও সিগারেট আটক করা গেছে।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস