ইডেনে গোলাপি বলের ঐতিহাসিক টেস্টের প্রথম ইনিংসটা নিশ্চয়ই মনে রাখতে চাইবে না বাংলাদেশ। ভারতীয় বোলারদের তোপে প্রথম দেড় সেশনেই গুটিয়ে গেছে টাইগাররা। মাত্র ৩০.৩ ওভারেই ১০৬ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায়।
এদিন টাইগার ইনিংসে ঘটেছে বিরল এক ঘটনা। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো একজনের পরিবর্তে আরেক ক্রিকেটার মাঠে নামায় বাংলাদেশ।
ইনিংসের ২১তম ওভারে মোহাম্মদ শামির বাউন্সার লিটনের হেলমেটে লাগে। বলের গতির কাছে হেরে যান লিটন। মাথা সরিয়ে নেয়ার আগেই বলটি সজোরে আঘাত হানে।
আঘাতের পর বাংলাদেশ দলের কিচিৎসকরা মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। ওই ওভারের পরের বলেই শামিকে চার মারেন। পরের ওভারে ইশান্ত শর্মাকে বাউন্ডার ছাড়া করেন। কিন্তু মাথায় আঘাতের কারণে অস্বস্তি আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে লিটনকে মাঠ ছাড়তে হয়। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন মেহেদী হাসান মিরাজ। যদি একাদশেই ছিলেন না মিরাজ।
টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মত কনকাশান সাবস্টিটিউট হিসেবে লিটনের পরিবর্তে মাঠে নামলেন তিনি। এর আগে অ্যাশেজে একই কারণে স্টিভেন স্মিথের পরিবর্তে মাঠে নেমেছিলেন মার্নাস লাবুশানে।
মিরাজ ব্যাট করায় বাংলাদেশ দলের হয়ে মোট ১২ জন ক্রিকটার মাঠে নামেন। তবে হতাশার কথা হলো- এরমধ্যে ৯ জনই দুই অংক ছুঁতে পারেননি। ৪ জন আউট হয়েছেন শূন্য রানে।
দুই অংক ছুঁয়েছেন ওপেনার সাদমান ইসলাম (২৯), লিটন দাস (২৪) এবং নাইম হাসান (১৯)।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ফেরেন ইমরুল কায়েস। তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৪ রান। এরপর মুমিনুল, মিঠুন এবং মুশফিক পর পর শূন্য রানে বিদায় নেন। মাহমুদুল্লাহর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৬ রান। ৬০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়া বাংলাদেশের হয়ে প্রতিরোধ গড়ছিলেন লিটন দাস। ২৪ রানে তিনি বলের আঘাতে আহত হয়ে ফেরার পর নাইমের ব্যাট থেকে আসে ১৯। লিটনের পরিবর্তে মাঠে নামা মেহেদী মিরাজ করেন ৮। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ১০৬ রানে।
প্রথম ইনিংসি মূলত নিজেদের করে নিয়েছেন ভারতীয় বোলারা। বল হাতে একাই পাঁচ উইকেট তুলে নিয়েছেন ভারতীয় পেসার ইশান্ত শর্মা। ১২ ওভার বল করে মাত্র ২২ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন ইমরুল, মুশফিক, নাইম, এবাদত এবং মেহেদী মিরজাকে। এছাড়া ৭ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন উমেশ যাদভ। বাকি দুই উকেট নেন মোহাম্মদ শামি।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি