ঢাকার সাভার উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের এসএসসি ২০২০ ইং এর পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে সরকার নির্ধারিত বোর্ড-ফি’র অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার শিমুলিয়া এবং বিরুলিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি স্কুলে সরেজমিন অনুসন্ধানে গেলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এসংক্রান্ত ভিডিও বক্তব্যে বিষয়টি উঠে আসে।
উপজেলার আশুলিয়া থানার শিমুলিয়া ইউনিয়নে গেলে শিমুলিয়া এসপি হাইস্কুলের বিরুদ্ধে বোর্ড-ফি’র অতিরিক্ত টাকা নেবার অভিযোগ করেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সচেতন এলাকাবাসী। এসএসসি ২০২০ ইং এর পরীক্ষার্থী দীপ্ত সূত্রধর ভিডিও বক্তব্যে জানান, তার নিকট থেকে ফর্ম ফিল-আপ এর জন্য ২০০০ টাকা, উন্নয়ন ফি হিসেবে ১৫০০ এবং অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য ১৫০০ টাকা এই মোট ৫ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে।
শিমুলিয়া এসপি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ইয়ার হোসেনের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ‘ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলছি’ জানিয়ে পরে আর এই প্রতিবেদকের কল রিসিভ করেন নাই। এজন্য এই অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিরুলিয়া ইউনিয়নের ফ্লোরা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, রেনেসাঁ আইডিয়াল স্কুল ও কলেজ এবং বেগুনবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেও বোর্ড-ফি’র অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এসংক্রান্ত অভিযোগ পেয়ে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলা হলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
ফ্লোরা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এর প্রধান শিক্ষক মোঃ ফারুক হোসেন জানান, তারা কলমা ওয়াজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে নিবন্ধনভুক্ত হওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠান যে হারে টাকা চেয়েছে তারাও সেই হারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। বোর্ড-ফি’র অতিরিক্ত টাকা নিয়েছেন কিনা এসংক্রান্ত এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বোর্ড-ফি’র অতিরিক্ত মাত্র ৬০০ টাকা নিয়েছি যা শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কাজে উক্ত টাকা যাতায়াত কাজে ব্যবহৃত হবে।
রেনেসাঁ আইডিয়াল স্কুল ও কলেজ এ গেলে প্রতিষ্ঠানটিতে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে থেকে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী অতিরিক্ত টাকা নেবার বিষয়ে জানায়। পরে এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি তার পক্ষ থেকে এক শিক্ষককে পাঠান।
উক্ত শিক্ষক জানান যে তাদের প্রতিষ্ঠান আক্রাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের আন্ডারে রেজিস্ট্রেশন করেছে, এজন্য আক্রাইন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তাদের থেকে যে পরিমান টাকা চেয়েছে তারাও ছাত্রছাত্রীদের থেকে সেই পরিমান টাকা নিয়েছেন। তবে তিনি কত টাকা নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেন নাই।
আব্দুল আউয়াল নামের একজন অভিভাবক ভিডিও বক্তব্যে জানান, তার ছেলে বেগুনবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২০ সালের বাণিজ্য বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিবে। তার কাছ থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ ৫২০০ টাকা নিয়েছে।
এব্যাপারে বিরুলিয়ার বেগুনবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদের মুঠোফোনে কল করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আমার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হালিম মোক্তারের সাথে কথা বলে আপনাকে জানাচ্ছি। এরপরে তিনি তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ করে রাখেন।
পরে বেগুনবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বিরুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হালিম মোক্তারের মুঠোফোনে কল করে বোর্ড-ফি’র অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তিনি জানান, আমার জানামতে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়নি, তবে যদি এসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় তবে আপনারা আপনাদের পত্রিকায় লেখেন।
সাভার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাঃ কামরুন্নাহার জানান, আসলে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে এসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পেলে আমাদের করার কিছু থাকে না। তবে সরকার নির্ধারিত বোর্ড-ফি (বিজ্ঞান ১৯৭০ টাকা এবং মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের জন্য ১৮৭০ টাকা) এর অতিরিক্ত টাকা নিলে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অপরাধ করেছে এবং এবিষয়ে প্রমাণ সাপেক্ষে আমরা ব্যবস্থা নেবো। আর সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই ব্যাপারে তদারকি চালাচ্ছেন।
এব্যাপারে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ পারভেজুর রহমান এর মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ব্যস্ত থাকায় কল রিসিভ না করায় এব্যাপারে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বার্তাবাজার/এমকে