টাংগাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার মোহনপুর খঃ আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘ ২৪ বছরের এমপিও ভুক্ত হয়নি। ঐ বিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষক কর্মচারী দীর্ঘ দই’যুগ ধরে বিনা বেতনে চাকরি করে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এ জনপদের অবহেলিত গরীব কৃষক, দিনমজুর মেহনতী মানুষের পিছিয়ে পড়া ও ঝরে পড়া ছেলে মেয়েদের শিক্ষা দানের লক্ষে ১৯৯৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিগত দীর্ঘ ২৪ বৎসর এ প্রতিষ্ঠান নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে যে সুযোগ সৃষ্টি করেছে তা এ গ্রামের মানুষের কাছে মাইল ফলক হয়ে আছে।
শিক্ষক ও কর্মচারীদের আর্থিক অভাব অনটনের কারনে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক খঃ জাহাঙ্গীর আলম সুধে ঋন করে বিদ্যালয় র্নিমান বাবদ ও সংসার চালাতে গিয়ে ঋনের বোঝায় ১০ বছর পূর্বে গ্রাম ছাড়া হয়েছেন। এবং ঋন ও সুদের টাকা চাপের কারনে আজও তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।তবুও বিনা বেতনে নিরলস প্রচেষ্টায় শিক্ষকতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এমপিও ভুক্তির ক্ষেত্রে নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অগ্রধিকার থাকা সত্বেও বর্তমান সরকার ঘোষিত নীতিমালা অনুসারে সকল শর্ত পুরন করা হলেও এ প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্ত না হওয়াই শিক্ষক কর্মচারী মধ্যে হতাশা বিরাজ করেছে। পরিবারে দেখা দিয়েছে হতাশায় ছাঁয়া,তাদের আশা ধূলিসাৎ হয়ে নিরাশায় পরিনত হয়েছে।মা,বাব,স্ত্রী,সন্তানদের ভরন পোষন পড়া লেখার খরচ জোগারের একমাত্র দায়িত্বে থাকা বিনা পয়সায় শিক্ষকতা করে আসছেন।
এক টানা বিদ্যালয়ে সময় দেওয়ার কারনে অন্য কোন উপার্জন কৃত কাজ করতে না পারায় শিক্ষিত এ ব্যক্তিদের পরিবারে নেমে আসে দারিদ্রের করাল গ্রাস,দূর্বিসহ হয়ে পরে তারা। শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন,বাংলাদেশের প্রথম অর্থ সচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য খঃ আসাদুজ্জামানের নামে বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্তির আশায় অপেক্ষায় পহর গুনে আসছিলেন শতভাগ।
কিন্তু ২৩ অক্টোবর বুধবার সদ্য ঘোষিত এমপিও তালিকায় তাদের নাম থাকায়,তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন না হওয়ার হতাশার অন্ধাকার নেমে আসে তাদের দু’চোখে।পরবর্তীতে এমপিও ছাড়লে প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্তি করার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দিপুমনি ও সংসদ সদস্য তানভীর হাসান (ছোটমনির) সহ উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছে।
বার্তাবাজার/এমকে