শিবির নয় শিবিরের বিতাড়ক ড.মাহবুব: স্টাটাস ভাইরাল

কট্টর আওয়ামীপন্থী ও প্রগতিশীল শিক্ষক নেতা হওয়ার পরেও শিবির তকমা দিয়ে কুশপুত্তলিকা দাহ করা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে নিয়ে ইবির সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা দুই শিক্ষকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া স্টাটাস ভাইরাল হয়েছে।

অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান সহকারী প্রক্টর এবং বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক আরিফুল ইসলামের ফেসবুকে দেয়া পোস্ট পাঠকদের উদ্দেশ্যে হুবহু তুলে ধরা হলো-

প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান স্যার ও কয়েকটি প্রশ্ন:

স্যার আজ বিবেকের তাড়নায় আপনাকে নিয়ে কিছু কথা লিখতে বাধ্য হলাম।কোন আবেগ নয় সত্যি কথাগুলোই তুলে ধরছি মাত্র:‌
যতদূর মনে পড়ে সালটা ২০০৯ কি ১০। আমি তখন অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি মাত্র। আমার রুমের পাশের রুম নং L-304(Internal). রুমটা পুরোটাই শিবির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। রুমটাতে কোন এক বড় ভাইয়ের সিট বরাদ্দ দিয়েছিলেন। ভাইটা আমাদের তথা ছাত্রলীগের অনুসারী হওয়ার কারণে ছাত্রশিবির কোনমতেই উঠতে দিচ্ছিল না ঐ রুমে। একদিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি আমাদের ফ্লোরে খুব হৈচৈ ও ভিড়। রুম থেকে বের হয়ে দেখি পাশের রুমে অফিসের সবার আনাগোনা। সাহস নিয়ে রুমের ভিতরে ঢুকে দেখি প্রভোস্ট স্যার তথা আপনি হাজির। আপনার সাথে প্রচন্ড বাকবিতন্ডা চলছে তৎকালীন দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডারদের(মেবি শিবিরের হল সেক্রেটারী অলিউল্লাহ,মোসাদ্দেক , তাজ)। আরেক পাশে দাঁড়িয়ে আছে শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার জ্যামি ও তার দলবল। ভাবলাম আজ আর আমার টিউটোরিয়াল পরীক্ষা দেয়া হলো না।এরকম চরম মুহূর্তে দেখলাম ওই রুমের অবৈধ সিট দখলকারী এক শিবিরকর্মীর লেপ, তোষক ও কাঁথা একপাশে আপনি আর এক পাশে মুকুট ভাই ধরে তিন তলা থেকে ফেলে দিলেন। তারপরে ওই ভাইটার সমাধান হল। এ যেন এক চরম দুঃসাহসিকতার পরিচয়। আর একটা কথা না বললেই নয় আমার সিটটা L-305 আপনার হাতেই পাশ হওয়া স্যার। আপনার কথাটা আজও আমার কানে বাজে আরে তোমার যেই রুমের, যেই সিট পছন্দ, তুমি সেই রুমে উঠে যাও। কেউ বাধা দিতে আসলে আমাকে বলিও। তখনকার সময়ে এরকম সাহস এবং অনুপ্রেরনা খুব কম সংখ্যক স্যারের কাছে থেকে পেয়েছি।

এভাবেই আমাদের হলে (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল) তিলে তিলে ছাত্রলীগকে প্রতিষ্ঠার মধ্যমনি আপনি। যাহোক একটা কথাই বলবো ড. মাহবুব শিবির নন, উনি শিবির ও স্বার্থান্বেষীদের জন্য আতংকের নাম।

আমার প্রশ্ন:
আজকের ছাত্রলীগ কার কুশপুত্তলিকাদাহ করছে?

যদি তাই হয়, তাহলে ক্যাম্পাসে এখনও অনেক প্রশিদ্ধ জামায়াতপন্থী শিক্ষক রয়েছে তাদের কিছু হচ্ছে না কেন?? তাহলে তোমরা আসলে কি?? রিকোয়েস্ট তোমাদের কাছে প্রাণপ্রিয় ছাত্রলীগকে প্রশ্নবিদ্ধ করিওনা।

অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে নিয়ে ইবির সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক শহিদুল ইসলামের ফেসবুক পোস্ট পাঠকদের উদ্দেশ্যে হুবহু তুলে ধরা হলো-
ড.মাহবুবর রহমান ও একটি বিষয়, যা বিবেক কে খুবই নাড়া দিচ্ছে!!

আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলাম।প্রথম বর্ষের রেজাল্ট হওয়ার পরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হলে ২০০৫ সালে সিট হয় কিন্তু ছাত্রলীগের মিছিল করার কারনে হলে উঠতে দেয় নাই শিবির।২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে আমরা হলে উঠতে সক্ষম হই। কিন্তু হলে শিবিরের দাপট কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছিল না।এর কিছুদিন পর প্রভষ্টের দায়িত্ব পান ড. মাহবুবর রহমান।হলে ছাত্রলীগের যেন সুসময় আসতে শুরু করে।একটি একটি করে সিট ধরে ছাত্রলীগকে যে প্রোভষ্ট সহযোগিতা করেছেন তিনি ড.মাহবুবর রহমান।

একদিন বঙ্গবন্ধু হল ২০৪ এ আমিসহ ছাত্রলীগ সিট ধরতে গিয়ে শিবিরের প্রবল বাধার সম্মুখীন হই।শিবির রণ প্রস্তুত শুরু করে।ড.মাহবুবর রহমান বিচক্ষণতার সহিত ছাত্রলীগকে সেভ করে নিয়ে এসে পরে সেই সিট ছাত্রলীগ কে দিয়েছিল।সেই মানুষটিকে কিভাবে আমি শিবির বলি?

বঙ্গবন্ধু হলে শিবিরের সাথে সংঘর্ষের সময় প্রোভষ্ট হয়ে ছাত্রলীগকে যে আগলিয়ে রেখেছে তাকে কি আমি শিবির বানাবো? ২০১০ সালে যে মানুষটি ১৫ ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকীতে হলে আলোচনা সভা ও রক্তদান কর্মসূচি পালন করত সেই মাহবুবর রহমান শিবির হবে? এটা কেহ বিশ্বাস করবেন?

২০১০ সাল বঙ্গবন্ধু হলে ছাত্রলীগের তিন গুন শিবির ছিল।কারন আমরা ১২৫ জনের মতো ছাত্রলীগ করতাম বাদবাকি সব শিবির করত।সাধারন ছাত্র সেই সময় হলে ছিল না। সেই সময় হলে বঙ্গবন্ধুর মুরাল ও বাংলাদেশের মানচিত্র স্হাপন কোন শিবির বা শিবিরের পৃষ্ঠপোষক করতে পারে?

স্বাধীনতা, অসম্প্রদায়িক চেতনার, ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষক হলেন ড.মাহবুবর রহমান। তাহলে আমার প্রানের সংগঠন ইবি ছাত্রলীগ আপনাদের বলছি, আপনারা যারা বর্তমান নেতাকর্মী আছেন তখন কিন্তু ছাত্রলীগ করা এত মসৃন ছিল না, সেই সময় হতে অদ্যবধি পর্যন্ত ড.মাহবুবর রহমানের শিবির বিতারনের ভূমিকা অপরিহার্য।

শিবির নয় শিবিরের বিতাড়ক হচ্ছে ড.মাহবুবর রহমান স্যার।

উল্লেখ্য গত ১৯ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের একটি অংশ সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে শিবির আখ্যা দিয়ে কুশপুত্তলিকা দাহ করে। তাদের দাবী অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান ছাত্রজীবনে রাবির সংবাদপত্র পাঠক ফোরামের সদস্য ছিলেন আর এই পাঠক ফোরাম তখন শিবির নিয়ন্ত্রিত ছিল। সে জন্য তাকে শিবির আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) এ সংবাদ প্রকাশের জন্য লিখিত ভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পাঠক ফোরাম। প্রতিবাদ পত্রে বলা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পাঠক ফোরাম সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী এবং শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার উন্নয়নমূলক সংগঠন। এটি স্বদেশেপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। আর কালের কন্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটিতে কিছু তথ্য সম্পূর্ণ উদ্ভট, কল্পনাপ্রসূত, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর