মালেককে ফাঁসিয়ে বহাল তবিয়তেই এসআই, আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন নিরপরাধ মালেক

রাজধানীর ডেমরার যুবলীগ নেতা আব্দুল মালেক মালুকে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে পল্টন থানার গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বিস্ম্ফোরকসহ চারটি মামলার চার্জশিটে আসামি করে পুলিশ। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিনা দোষে ১৮ দিন জেল খাটেন তিনি। জামিনে বেরিয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে লিখিত আবেদন করেন পুলিশ সদর দপ্তরে।

পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের তদন্তে ২০১৫ সালে মালেক নির্দোষ প্রমাণিত হন। কিন্তু আজও তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি পাননি। নিয়মিত ঢাকার আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাকে। অথচ একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে চারটি মামলায় ফাঁসিয়ে দিলেও পল্টন থানার তৎকালীন এসআই শওকত আলী বহাল তবিয়তে আছেন।

মামলার চার্জশিট দেওয়ার সময় আব্দুল মালেক ডেমরার সারুলিয়া ইউনিয়ন (বিলুপ্ত) যুবলীগের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি জানান, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে সৎভাইদের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। সৎভাইদের সঙ্গে এসআই শওকত আলীর যোগসাজশে তাকে ২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর হরতালে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বিস্ম্ফোরকসহ চারটি মামলার চার্জশিটে আসামি করা হয়। সরকারদলীয় লোক হয়েও তাকে মিথ্যা মামলায় জেল খাটতে হয়। তিনি যে ষড়যন্ত্রের শিকার এবং নির্দোষ তা পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের তদন্তে প্রমাণিত হয়। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে এ-সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র দেওয়া হয়নি।

তাই মামলা থেকে আজও অব্যাহতি পাননি তিনি। মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিতে হচ্ছে তাকে। এতে তার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, সামাজিকভাবেও মর্যাদাহানি হচ্ছে। আব্দুল মালেক প্রশ্ন করেন, আর কতদিন তাকে মিথ্যা মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে হবে?

মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালে বিএনপির ডাকা হরতাল কর্মসূচিতে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ম্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা চারটি মামলার চার্জশিটে আব্দুল মালেক মালুকে অভিযুক্ত করা হয়। আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। চার্জশিটে বলা হয়, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ম্ফোরণের ঘটনায় মালেক সরাসরি অংশ নেন। অথচ এজাহারে তার নাম ছিল না। চার্জশিটের পর মালেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ২০১৫ সালের এপ্রিলে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। গ্রেপ্তারের সময় তিনি জানতে পারেন, তিনি চারটি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

১৮ দিন কারাভোগ করে জামিনে বের হয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন মালেক। অভিযোগের একটি অনুলিপি দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছেও। মতিঝিল বিভাগের সে সময়ের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব পান। ২০১৫ সালের ২৫ মে সংশ্নিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরতালের ওইসব সহিংসতায় মালেকের কোনো সম্পৃক্ততা মেলেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলা চারটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার তৎকালীন এসআই শওকত আলী ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। অসৎ উদ্দেশ্যে, আর্থিক সুবিধা পেয়ে অথবা কারোর পরামর্শে সহজ-সরল, নিরীহ মালেককে এসআই শওকত আলী চার্জশিটভুক্ত আসামি করেছেন। মালেকের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা হয়নি, কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ক্ষেত্রে এসআই শওকত আলী ছাড়াও তৎকালীন ওসি মোর্শেদ আলম ও পরিদর্শক (তদন্ত) তোফায়েল আহমেদের গাফিলতি রয়েছে।

মালেককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয় ২০১৭ সালের এপ্রিলে। কিন্তু এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন আব্দুল মালেক।

এ ব্যাপারে এসআই শওকত আলীর মন্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বার্তা বাজার/ডব্লিও এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর