ভোটার তালিকা তৈরি সংক্রান্ত একটি প্রকল্পে নির্বাচন কমিশন নানা ক্ষেত্রে অযৌক্তিক ব্যয়ের প্রস্তাব করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ২ হাজার ৫৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পের মাধ্যমে ১০-১৭ বছর বয়সী বাংলাদেশিদের স্থায়ী পরিচয়পত্র দেয়া সম্ভব কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে পরিকল্পনা কমিশন।
এজন্য নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি কমিটি গঠন করে প্রকল্পের ব্যয় যুক্তিযুক্ত করতে সুপারিশ দিয়ে প্রকল্প প্রস্তাব ফেরত পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় (পিইসি) এসব সুপারিশ দেয়া হয়। ১৮ নভেম্বর ওই সভায় কার্যবিবরণী জারি করে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ বৃহস্পতিবার বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পে অযৌক্তিক ব্যয় ধরা হয়েছে বলেই ব্যয় যুক্তিযুক্তকরণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি একটি ভালো উদ্যোগ। কেননা কমিটি বসে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করে দেখবে প্রস্তাবিত ব্যয়ের সত্যিই প্রয়োজন আছে কিনা। এর মধ্য দিয়ে প্রকৃত ব্যয় ধরা হবে বলে আশা করছি।
পিইসি সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্যামস্টেক উইংয়ের যুগ্ম প্রধানকে আহ্বায়ক করে আইএমইডি, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং আইডিইএ প্রকল্পের প্রতিনিধি সমন্বয়ে একটি ব্যয় যুক্তিযুক্তকরণ কমিটি গঠন করে প্রকল্পের ব্যয় যুক্তিযুক্ত করতে হবে।
সূত্র জানায়, ‘ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও জাতীয় পরিচিতি সেবা প্রদানে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয় পরিকল্পনা কমিশনে। প্রক্রিয়াকরণ শেষে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে চলতি বছর থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করার কথা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের। প্রকল্প প্রস্তাবে অডিও-ভিডিও এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে ৪ কোটি টাকা, যোগ্য জনবল থাকার তত্ত্বে ৪ লাখ টাকা মাসিক সম্মানিতে জনবল নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে রয়েছে সাড়ে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মাসিক সম্মানীতে পরামর্শক নেয়ার প্রস্তাবও। পিইসি সভার কার্যপত্রে পরিকল্পনা কমিশন বলছিল, একজন প্রকল্প পরিচালক, দু’জন অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক, উপপ্রকল্প পরিচালক (প্রশাসন), উপপ্রকল্প পরিচালক (অর্থ), উপপ্রকল্প পরিচালক (সম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং সহকারী পরিচালকের (অ্যাকাউন্টস/ফিন্যান্স) ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু তার পরও একজন সিনিয়র প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক যার মাসিক সম্মানী ধরা হয়েছে ৪ লাখ টাকা। একজন সিনিয়র ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক (৪ লাখ টাকা)। একজন মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা পরামর্শক (আড়াই লাখ টাকা) এবং একজন সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরামর্শক (দেড় লাখ টাকা) ধরা হয়েছে।
এর বাইরে প্রকল্পে একজন উপপরিচালক (মনিটরিং ও সমন্বয়) এবং একজন সহকারী পরিচালকের (মনিটরিং) পদায়নের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শকের দায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি ওভারলেপিং একজন মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন, ডকুমেন্টেশন ও নলেজ ম্যানেজমেন্ট পরামর্শকের সংস্থান রাখা হয়েছে। যার মাসিক সম্মানী ধরা হয়েছে আড়াই লাখ টাকা।
কার্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রেষণে বা অতিরিক্ত দায়িত্বে একজন উপপ্রকল্প পরিচালক (প্রকিউরমেন্ট) এবং একজন সহকারী প্রকল্প পরিচালক (প্রকিউরমেন্ট) নিয়োগের সংস্থান রয়েছে। এসব পদে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা প্রেষণে পাওয়া যেতে পারে। তা সত্ত্বেও আড়াই লাখ টাকা মাসিক বেতনে ৫ বছরের জন্য মোট দেড় কোটি টাকায় একজন প্রকিউরমেন্ট পরামর্শক এবং দেড় লাখ টাকা বেতনে একজন জুনিয়র প্রকিউরমেন্ট পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সভায় আলোচনা করা যেতে পারে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত আরও ১০ ধরনের পরামর্শকের প্রয়োজনীয়তা, কর্মকাল ও সম্মানী নির্ধারণের ভিত্তি সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে পরিকল্পনা কমিশন।
এগুলো হল- সিনিয়র ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর চার বছরের জন্য মাসিক সম্মানী প্রস্তাব করা হয়েছে ৪ লাখ টাকা। এছাড়া আইটি মাসিক সম্মানী সাড়ে ৫ লাখ টাকা। ডাটাবেজ অপারেটর আড়াই লাখ টাকা। নেটওয়ার্ক পরামর্শক আড়াই লাখ টাকা। হার্ডওয়্যার দেড় লাখ টাকা। লিগ্যাল পরামর্শক ৩ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলোর বাইরে প্রথম ডিপিপিপিতে প্রস্তাব না থাকলেও সংশোধিত প্রস্তাবে ধরা হয়েছে কতজন পারসোনালাইজেশন পরামর্শক সম্মানী এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন পরামর্শক আড়াই লাখ টাকা। এপিআই পরামর্শক ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এমআইএস পরামর্শক ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, এগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রে খণ্ডকালীন বা অল্প সময়ের জন্য নিয়োগ করা যেতে পারে।
বার্তা বাজার/ডব্লিও এস