মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের ঘনবসতির মধ্যে ফসলি জমি নষ্ট করে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই গড়ে উঠছে একের পর এক ইটভাটা। এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় একদিকে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে ভাটার পাশের বাসিন্দারা। অন্যদিকে ফসলি জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অনেক কৃষক।
সিরাজদিখানে অর্ধশতাধিক ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও বর্জে বিপন্ন হচ্ছে সিরাজদিখানের পরিবেশ। এতে ভাটার আশপাশের গ্রামীণ জনপদের জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইটভাটা সৃষ্ট দূষণে বয়স্ক ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে মানুষের ফুসফুসের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত নানা রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অস্বীকার করার কোন বিকল্প নেই যে কোন ইট আমাদের অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হয়ে উঠছে দিনদিনই । আধুনিকতার যুগে প্রবেশের সাথে সাথে ইটের বিবিধ ব্যবহার বেড়েই চলছে । কিন্তু ইট উৎপাদনের ক্ষেত্রে পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব একটি বড় বাঁধা । বিশেষ করে কৃষিজমি এবং কাঠের ব্যবহার ও তার ফলে উৎপাদিত কালো ধোয়া সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ । ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইনে (২০১৩) নিষেধ থাকা সত্ত্বেও সিরাজদিখানে বেশির ভাগ ভাটাই স্থাপন করা হয়েছে লোকালয় তথা মানুষের বসতবাড়ি ১ কি:মি:এর মধ্যে । ফলে পরিবেশ বিপর্যয়সহ জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
মানুষের স্বাস্থ্যে এর ক্ষতিকর দিক কী কী, তা জানতে চাইলে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.বদিউজ্জামান বলেন, ‘ ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় কারণে মানুষের শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ফুসফুসে বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া ধুলাবালু থেকে অ্যালার্জি, চুলকানিসহ বিভিন্ন চর্মরোগ হতে পারে। হাঁপানি রোগ দেখা দিতে পারে।’
উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের মধ্যে কেয়াইন,বাসাইল ও বালুচর ইউনিয়নে প্রায় পঞ্চাশটির অধিক ইট ভাটা রয়েছে যার অধিকাংশ ইটভাটায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ইট পোড়ানো কার্যক্রম। সিরাজদিখান ইটভাটার মালিক সমিতির সভাপতি মো.জয়নাল আবেদিন বলেন, সিরাজদিখানের ৩ টি ইউনিয়নে প্রায় ৪০-৪২ টি ইটভাটা রয়েছে এর মধ্যে কিছু বন্ধ ও আছে । ইটভাটা থেকে দূষণ হওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি আরো জানান, ইটের ভাটাগুলোতে চিমনির সঙ্গে একধরনের পানির ঝরনা ব্যবহার করলে এই দূষণ অনেকখানি কমিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু সেটি ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে অনেকে এতে আগ্রহী হচ্ছেন না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী-অধ্যাপক ড.আছিব আহমেদ বলেন, ‘দূষণের জন্য আশ পাশের ইটভাটা সবচেয়ে বেশি দায়ী। ইটভাটার কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়ে পরিবেশ দূষণ করছে। এ ছাড়া অনেক ভাটায় টায়ার, প্লাস্টিক ব্যবহার করে থাকে । এতে অনেক কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি ভূ-উপরস্থ মাটির ব্যবহারে আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষিজমির পরিমাণ। ইটভাটা মাটি, পানি এবং জনস্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি করছে৷’
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. নাইম মিয়া বলেন,‘বর্তমানে ইটভাটায় বিভিন্ন ভাবে অভিযান চলছে। প্রতিদিন আমি নিজে থেকে অভিযান পরিচালনা করছি। তবে জেলার ৭২টির মধ্যে সবচেয়ে বেশী সিরাজদিখানে এর মধ্যে জেলায় ৩২টি ইটভাটা সম্পূর্ণ জিকযাক প্রযুক্তি সম্র্পন্ন এগুলো তুলনামূলক ভাবে কম দূষন করে। বাকি ইটভাটা গুলোকে বিভিন্ন ধরনের চিঠি ইসুসহ সকল পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। এদের আর কোন সময় দেওয়া হবে না। এ ধরনের ইট ভাটাগুলোকে আর্থিক জরিমানাসহ ভেঙ্গে নষ্ট করা হবে।
বার্তা বাজার/ডব্লিও এস