সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব পড়ছে সবজির বাজারে, ভরা মৌসুমেও কমছে না শীতের সবজির দাম। বাজারে উঠেছে শীতের সবজি। শীতের সবজিতে ভরা বাজার। দাম তুলনামূলক বেশি।
বাজারভেদ দামেরও পার্থক্য রয়েছে। প্রলংকারী ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ক্ষেতভরা ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকের ফসলের ক্ষেতে মই দিয়েছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। যে কারণে ভরা মৌসুমেও সবজির দাম কমছে না।
বিক্রেতারা জানান, সবজিগুলো বাজারে নতুন ওঠানোর সময় দাম বেশিই রাখা হয়। কৃষকদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হয় বলে বিক্রিও করতে হয় বেশি দামে। তবে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবজির সরবরাহ বেড়ে গেলে দামও কমে আসবে। সরজমিনে সাতক্ষীরা, সুলতানপুর বড়বাজার, ইটাগাছা বাজার ও কদমতলা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের শীতের সবজি নিয়ে বসেছেন বিক্রতারা।
সবজির মধ্যে সিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিলো ৬৫-৭০ টাকা। ফুলকপি প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিলো ৩০-৩৫ টাকা। বাঁধাকপি প্রতি কেজি আগে ছিলো ২০ টাকা, এখন ২৫ থেকে ৩০ টাকা। বেগুন প্রতি কেজি আগে ছিলো ৩০ টাকা, এখন ৪০ টাকা। করলা আগে ছিলো ৪০ টাকা, এখন ৬০ টাকা। উচ্ছে আগে ছিলো ৬০ টাকা, এখন ৮০ টাকা। ৩০ টাকার বরবটি এখন ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শীতের সবজির মধ্যে টমেটা থাকেলও এখন সারা বছরই টেমেটা পাওয়া যায়। টমেটা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। যা আগে ছিলো ৬০-৭০ টাকা। তবে শীতের নতুন আলু বাজারে আসেনি এখনো। কদমতলা কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী হাসান ও ইলিয়াস জানালেন, এখন নতুন আলু আসা শুরু হয়নি। দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন আলু বাজারে পাওয়া যাবে। তবে আলুর দাম অপরিবর্তনীয়। ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে আলু।
বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সবজির দাম বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫ টাকার পটল এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা দরে। ২৫ টাকার কলা এখন ৩৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কচুর দামও একইভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ টাকা থেকে ৩৫ টাকায় ঠেকছে।
ক্রেতা কদমতলা বাজারের অর্পা ডেকরেটরের মালিক নাসির উদ্দিন আহমেদ রাজু জানান, শীতের মৌসুমে সবজীর দাম কম হওয়ার কথা কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে তা বেড়ে গেছে আগে প্যাচেঙ্গা ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল এখন ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কচুরমুখি ৩৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ টাকা হয়েছে।
ক্রেতা কদমতলা বাজারের অর্পা ডেকরেটরের মালিক নাসির উদ্দিন আহমেদ রাজুর স্ত্রী আসমা আহমেদ জানান, এখন বাজার করতে এসে দারুন ভাবে সমস্যায় পড়তে হয় পালং শাক আগে ছিল ২০ টাকায় এখন ৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ঢেড়শ ছিল ৩০ টাকায় এখন কিনতে হচ্ছে ৩৫ টাকায়। কিন্তু আর কি করার বলেন, শীতের সবজি খেতে হলে তা কিনতেই হবে।
কয়েকজন সবজি বিক্রতা জানান, সিম, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ এসব সবজি বেশি আসছে ভাড়ুখালি, মাহমুদপুর, আগর-দাঁড়ি, ফিংড়ী, আলিপুর এলাকা থেকে। সেসব এলাকায় তুলনামূলক উঁচু জায়গায় এসব সবজির চাষ হয়। এছাড়া এসব এলাকায় সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় সব তছনছ হয়ে গেছে। যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতার পানি সরে যেতে শুরু করেছে, সেখানেও সবজির চাষ শুরু হয়েছে। সেগুলো একযোগে আসা শুরু হলে দাম অনেক কমে আসবে। ক্রেতারা বলেছেন, ভরা মৌসুমে সবজির দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।
বার্তাবাজার/এমকে