জুনিয়রকে আচরণ শেখাতে গিয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৯

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রলীগের বিদ্রোহী দুটি উপগ্রুপের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় ৯ ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার সন্ধ্যা ৬.৪০ থেকে রাত ৯.৩০ পর্যন্ত দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ ঘটনায় ইবি ছাত্রলীগের শাহজালাল সোহাগ গ্রুপের ৫ থেকে ৬ জন এবং ফজলে রাব্বি গ্রুপের ৩ থেকে ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী মতে, বুধবার বিকেলে ক্যাম্পাসের জিয়া মোড়ে শাহজালাল সোহাগ অনুসারী ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের আলাল ইবনে জয়, চঞ্চু চাকমা, ঝিনুক এবং সালমান হৃদয়, ফজলে রাব্বি গ্রুপের কর্মী এবং “ল্যান্ড ল” বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ওশানকে ডেকে তার চালচলন ভালো নয় বলে তার আচার আচরণ শুধরে নিতে বলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওশান তাদের সাথে ঔদ্ধত্য পূর্ণ আচরণ করলে ওশানকে চড়-থাপ্পড় মারে তারা।

পরবর্তীতে সন্ধ্যার পরে জিয়া মোড়ে ওশান, ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের বাঁধন,রাব্বি (সমাজকর্ম), স্বাধীন, রানা, সালমানসহ ফজলে রাব্বি গ্রুপের ১০-১২ জন বাঁশ,লাঠিসোঁটা, লাকড়ি, খুন্তি নিয়ে আলাল ইবনে জয়ের উপর অতর্কিত ভাবে হামলা করে। খবর ছড়িয়ে পরলে শাহজালাল সোহাগ অনুসারীরা বিভিন্ন হল থেকে জিয়া মোরে ছুটে এলে শুরু হয় সংঘর্ষ এসময় তারা সেখানে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই গ্রুপকেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে দেখা গেছে। এতে উভয় গ্রুপের শাহাজালাল ইসলাম সোহাগ, বাঁধন, আলাল ইবনে জয়, হাসান, সালমান,রাব্বি সহ প্রায় ৯ জন আহত হয়েছেন।

পরে মেডিকেল সেন্টার, ব্যাবসায় প্রশাসন ভবনের পেছনে, সাদ্দাম হোসেন হল এলাকায়ও রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কয়েক দফা সংর্ঘষ হয়েছে।

এরপর ছাত্রলীগের বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দেয়া ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত, তৌকির মাহফুজ মাসুদ, শাহজালাল সোহাগ, বিপুল হোসাইন খান, অনিক, আবীরসহ অন্যান্যদের চেষ্টায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও সর্বশেষ রাত সাড়ে ৯টায় ফজলে রাব্বি গ্রুপের রানা,স্বাধীন সহ ৩-৪ জন জিয়া মোরের দিকে যেতে চাইলে শাহজালাল সোহাগ অনুসারী প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মী তাদের ধাওয়া দিলে তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করে।

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আবাসিক হলগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও আতঙ্ক গ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী নেতা ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, এ ঘটনাটি সিনিয়র-জুনিয়রদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি মাত্র তবে বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করছি।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, ঘটনাটি শুনা মাত্রই আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় গ্রুপকে শান্ত করে হলে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কে বা কারা এ ঘটনার সাথে জড়িত আমি তা খতিয়ে দেখছি।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর