দীর্ঘ ৭ বছর পর পাবনায় গার্মেন্টস কর্মী কাকলী(৩০)কে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ইকবাল হোসেন(৪৪) ও আজিম হোসেন(৪৫) নামের দুইজনকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পাবনা নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত।
আজ বুধবার সকালে পাবনা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওয়ালিউর রহমান এই রায় প্রদান করেন। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তরা হলেন, পাবনা জেলার সুজানগর থানার বনগ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে আজিম উদ্দিন ও তার বন্ধু ঢাকা নবীনগরের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে ইকবাল হোসেন।
নিহত কাকলী খাতুন রাজবাড়ী জেলার কালুখালী গ্রামের জলিল সরদারের মেয়ে ও ঢাকার একটি গার্মেন্টস কর্মী। মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তারিখে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আসামী ইকবাল ও আজিম ঢাকা থেকে কাকলীকে পাবনার সুজানগরে নিয়ে আসে।
এরপর রাতে উপজেলার রামজীবনপুর মাঠের একটি নার্সারীর মধ্যে তাকে নিয়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সুজানগর থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক রওশন মিয়া ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং সুজানগর থানায় অজ্ঞাত নামীয় আসামী দিয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে আসামীদের মোবাইল কল ট্রেকিং করে তাদের আটক করা হয় এবং হত্যার বিষয়ে তারা জড়িত স্বীকার করে। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রওশন আজিম ও ইকবালকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমান শেষে আসামীদের উপস্থিতিতে বুধবার সকালে পাবনা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওয়ালিউর রহমান এই রায় প্রদান করেন। এসময় ৩ জনের মধ্যে একজনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
মামলায় সরকারী পক্ষের আইনজীবি ছিলেন, পাবনা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট খন্দকার আব্দুর রকিব এবং আসামী পক্ষের আইনজীবি ছিলেন এডভোকেট শরিফুল ইসলাম ও এডভোকেট কাজি মকবুল হোসেন।
বার্তাবাজার/এমকে