চালের দাম বাড়লেও ধান নিয়ে হতাশ কৃষকরা

হটাৎ লাফিয়ে চালের দর বাড়লেও নওগাঁর হাটগুলোতে ধানের দাম নিয়ে হতাশ কৃষকরা। নতুন ধান মাঠ থেকে কেটে হাটে নিয়ে যাচ্ছেন চাষিরা। তবে হাটগুলোতে সরকারের বেধে দেয়া দরের প্রায় অর্ধেক দামে ধান কিনছেন মিলাররা।

কৃষকরা বলছেন ধানের রোগ বালাইসহ নানা খাতে এবার বেড়েছে খরচ। ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে প্রান্তিক হাটগুলোতে প্রশাসনের নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারিপর্যায়ে কেনা শুরু হলে ধানের বাজার বাড়বে।

ঘাম ঝরা শ্রম আর ফসলের নিবিড় পরিচর্যার দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সোনালী ধান কেটে তোলা কৃষকের আনন্দ মাঠ থেকে হাট পর্যন্ত পৌঁছার পর আর থাকছে না। ফসলের নানা বালাই মোকাবিলা করা খরচের লম্বা খাত যোগ হয়েছে এবারের রোপা আমন আবাদে।

নওগাঁর সবচেয়ে বড় ধানের হাট মহাদেবপুর, মাতাজি, মধুইল, ও আবাদ পুকুর এসব হাটে স্বর্ণা ৬৫০ থেকে ৬৮০, হাইব্রিড ৬০০-৬৫০, পাইজাম ৭৫০ থেকে ৭৮০, কাটারি ভোগ ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ধান। কৃষকপর্যায়ে সরকার ধান সংগ্রহ শুরুর পর দাম কিছুটা বাড়ার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

নওগাঁর চাল কল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো ফরহাদ হোসেন চাকলাদার বলেন, সরকার একটা বড় টার্গেট দিয়েছে, ৬ লাখ টন ধান ২৬ টাকা দরে সরাসরি সংগ্রহ করবে। এত করে ধানের ন্যায্য মূল্য দিতে সক্ষম হব।

নওগাঁর মহাদেবপুর মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নতুন ধান উঠছে, এক থেকে দু’সপ্তাহ লাগবে বাজার স্থিতিশীল হতে। কৃষক পর্যায়ে ২০ নভেম্বর থেকে ধান কেনার সব প্রস্ততি শেষ করেছে খাদ্য বিভাগ।

এবার কৃষক পর্যায়ে ধান কেনার স্বচ্ছতা আনতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কৃষক অ্যাপ চালুর কথা বলছেন খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা জি এম ফারুক হোসেন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, এতে কারও কোনো প্রশ্ন থাকবে না। কার কাছ থেকে কিনেছি কী পরিমাণ কিনেছি এবং কেউ চালাকি করতে পারবে না। ধরা পড়ে যাবে।

নওগাঁর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এ কর্মকর্তা বলেন, ১০৪০ টাকা মণ দরে কৃষকপর্যায়ে এবার নওগাঁয় ১৯ হাজার ৯১২ টন ধান কিনবে জেলার খাদ্য বিভাগ।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর