বগুড়ার শেরপুরে গুজব রটিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এবার বেশি দামে লবণ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পেঁয়াজের মত লবণের দামও বেড়ে যাচ্ছে-এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে লবণ নিয়ে শুরু হয় লঙ্কাকা-। সাধারণ জনগণ লবণ কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন শহরের খুচরা ও পাইকারী দোকানগুলোতে। ফলে বাড়তি চাপে নিমিষেই ফুরিয়ে যায় লবণের মজুদ। আবার অনেক ব্যবসায়ী লবণ বিক্রি বন্ধ করে দেন। এছাড়া কৃত্রিম সংকট তৈরী করে বেশি দামে লবণ বিক্রি করতেও দেখা যায়।
এদিকে লবণের দাম বৃদ্ধির গুজবে কান না দেয়ার আহবান জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরজুড়ে মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া শহরের একাধিক স্থানে অভিযানও চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লিয়াকত আলী সেখের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় পৌরশহরের হাটখোলা এলাকার আকাশ দত্তের মালিকানাধীন পাইকারী দোকান ভাই ভাই ষ্টোর ৫০কেজি বস্তা ৫শ’ টাকার স্থলে ১২শ টাকা বিক্রি করায় ৫০ হাজার এবং গাড়িদহ বাজারের আব্দুল হামিদের মুদির দোকানে ৩৫ টাকা কেজির প্যাকেট লবণ ৫০ টাকায় বিক্রি করায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জানা যায়, লবণের মূল্যবৃদ্ধির গুজবে মঙ্গলবার ১৯নভেম্বর সকাল থেকেই শেরপুর হাটখোলা, রেজিষ্ট্রি অফিস, দুবলাগাড়ী, বটতলা, সাধুবাড়ী, মির্জাপুর, মহিপুর, বাসষ্ট্যান্ডসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামা লে লবণ কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা। ফলে ক্রেতাদের সামাল দিতে দোকানীদের বেগ পেতে হয়। ছোট-বড় দোকান গুলোর ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত লাভের আশায় লবণ বিক্রি বন্ধ করে দেয়।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, লবণ কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা। এই সুযোগে অনেক লবণ ব্যবসায়ী বিক্রয় করছেন কেজি প্রতি খোলা লবণ পাইকারি ১৪টাকা ছিল, তা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। এ সময় কথা হয় ব্যবসায়ী আব্দুল ওহাবের সঙ্গে। তিনি বলেন, লবণের দাম বাড়ার গুজবে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। একেকজন ক্রেতা দুই থেকে দশ বস্তা লবণ কিনেছেন। তিনি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৬০০বস্তা লবণ বিক্রি করেছেন বলেও জানান তিনি। লবণ কিনতে আসা শাহিন, রফিকসহ আরো অনেকেই জানান, লোকেমুখে শুনছি লবণের দাম বেড়েছে। আগামীকাল থেকে আরো কয়েকগুণ বাড়তে পারে-এই আাশঙ্কায় আজকে বেশি পরিমান লবণ কিনতে এসেছি। কারণ পেঁয়াজের মতো লবণের সংকট দেখা দিতে পারে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্ভাহি কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, একটি কুচক্রীমহল লবণের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে গুজব রটিয়েছে। খবর পাওয়ামাত্র ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জনের ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এখন লবণের দাম আগের মতই আছে। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত অব্যাহত থাকবে।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস