‘অনেকে বিশ্বাসই করতে পারছেন না ছবিটা হাতে আঁকা’

প্রতিবেদনের প্রচ্ছদে যে ছবিটা পাঠক দেখছেন, সেটা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করে বলছেন অবিশ্বাস্য আর্টওয়ার্ক, আবার অনেকেই পাল্টা কমেন্টে ছবিটা হাতে আঁকা সেটা নিয়ে ‘সন্দেহ’ প্রকাশ করছেন। তবে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ছবিটা হাতেই এঁকেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী হেলাল শাহ। পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার এলাকার একটি গলির দৃশ্যায়ন এ ছবি সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে বাৎসরিক আর্ট এক্সিবিশনে মিডিয়া বেস্ট অ্যাওয়ার্ডও জিতে নিয়েছে। এরই সূত্র ধরে কথা হয় হেলাল শাহ’র সঙ্গে।

নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ছেলে হেলাল শাহ। আজ মঙ্গলবার তার সঙ্গে কথা বলার সময়ই তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় মাস্টার্সের প্রথম দিনের ক্লাস করে বেরোলেন মাত্র। জানালেন তার শুরুর কথা, ভবিষ্যত স্বপ্নের কথা। হেলাল শাহ মান্দায় স্কুল জীবন শেষ করে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছিলেন রাজশাহী কলেজে। তার বড় ভাই দুলাল হোসাইন শাহ তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী। বড় ভাইয়ের আঁকাআঁকি দেখেই মূলত তার মধ্যে আঁকাআঁকির স্বপ্নের বীজ বোনে। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

নিজের আঁকা ছবির পাশে আঁকিয়ে হেলাল শাহ।

কথা প্রসঙ্গে উঠে আসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি নিয়ে। ছবিটি তিনি এঁকেছেন ২০ দিনে। তবে এর পেছনে সময় গেছে আরো বেশ কয়েকদিন। এজন্য তাকে বেশ সময়ও দিতে হয়েছে। হেলাল শাহ বলছিলেন, ‘আসলে ছবিটা আঁকতে ২০ দিন লাগলেও, আমি এজন্য অনেকদিন পুরান ঢাকার অলিগলি ঘুরেছি। এই ছবিটা আঁকবো বলেই ঘুরেছি বললে বেশি বলা হবে। মূলত পুরান ঢাকা, সদর ঘাট ছবি আঁকার জন্য আমার পছন্দের সাবজেক্ট বলতে পারেন। আমি পুরান ঢাকায় ঘুরে ঘুরে প্রথমে ছবি তুলি। সেগুলো রুমে এনে পর্যবেক্ষণ করি; কোনটাতে ভালো লাইট, অ্যাংগেল পাওয়া গেছে। সেটা নিয়ে কাজ করি। এই ছবিটা যেদিনের তোলা সেদিন সকাল থেকে প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিলাম শাঁখারি বাজারের ওই গলিতে। ছবিটা তোলার সময়ই ভালো লেগেছিল। হলে এসে আরো ডিটেইলস দেখেছি। মানুষের অবয়ব, রাস্তায় পড়ে থাকা ময়লা, দোকান, ব্যানার, বিভিন্ন তার আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূর্যের আলো; সবমিলিয়ে ছবিটা আঁকার জন্য পছন্দ হয় আমার।’

এ ধরনের অ্যাকাডেমিক ওয়ার্ক; যেগুলো কি না রিয়েলিস্টিক পেইন্টিং নামেও পরিচিত- আগেও করেছেন হেলাল শাহ। এ বছর ছবিটা চারুকলা অনুষদের যে পুরস্কারটা পেয়েছেন, গেল বছরও একই ছবি হাতে উঠেছে তার। তার কথায়, ‘আমি গেল বছর সদরঘাটের একটি ছবি এঁকেছিলাম। সেটাতেও মিডিয়া বেস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলাম।’

নেটিজেনদের ‘অবিশ্বাসের’ কথাটা তুলে ধরতেই মুচকি হাসলেন হেলাল শাহ। বললেন, ‘আসলে চলচ্চিত্রের কোন ভিলেনকে কেউ যখন ঘৃণা করে, আমি মনে করি সেটা সেই অভিনেতার জন্য ভালোলাগার। ঠিক সেরকমভাবেই বিষয়টা ভাবছি আমি। মানুষের অবিশ্বাসেই আমি স্বার্থক। মানুষ যে বুঝতেই পারছে না এটা হাতে আঁকা, এখানেই আমার সফলতা। তবে তারপরও বলবো, ছবিটা কাছ থেকে না দেখলে বুঝতে না পারাটা অস্বাভাবিক কিছু না। আমার কাজ দেখতে চাইলে কেউ আমার কাছে আসতে পারেন।’

তবে ফেসবুকে যে যাই বলুক, ছবি বোদ্ধারা যখন ছবির প্রশংসা করেন তখন হেলাল শাহ’র অজান্তেই মনের কোনে উঁকি দেয় একদিন বড় আঁকিয়ে হওয়ার। তার কথায়, ‘আমার আসলে চাকরি-বাকরি করার খুব একটা ইচ্ছা নেই। ফ্রিল্যান্স আর্টিস্ট হওয়ারই ইচ্ছা। এখন অনেকেই নিজের পোট্রেট আঁকতে দেন। কয়েকটা যৌথ এক্সিবিশনেও অংশ নিয়েছি। নিজের সলো এক্সিবিশন করারও ইচ্ছা আছে।’

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর