শেরপুরে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আমজাদ হোসেন এর স্মরণসভা

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, শেরপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেনের মৃত্যুতে স্মরণসভা করেছে সাংবাদিক বিপ্লবী রবিনিয়োগী সভাকক্ষ পরিচালনা পর্ষদ।

১৮ নভেম্বর সোমবার রাতে শহরের নিউমার্কেট বিপ্লবী রবিনিয়োগী সভাকক্ষে এ স্মরণসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, আমজাদ হোসেনের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন মুক্তিযুদ্ধের ছাত্র সংগঠক হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া। তিঁনিই প্রথম শেরপুর পৌরপার্ক মাঠে ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের নামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আমজাদ হোসেন মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ছিলেন।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি ব্যবসায়ী হিসেবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন এবং শেরপুর চেম্বারের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিন সন্তানকে তিঁনি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। এককথায় তিঁনি ছিলেন সবদিক থেকে একজন সফল মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তিঁনি সর্বদা অবিচল ছিলেন। স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে তিঁনি কখনো আপস করেননি। যা বিশ্বাস করতেন, অকপটে তাই বলে দিতেন। আপদমস্তক অসাম্প্রদায়িক মানুষ আমজাদ হোসেন ছিলেন চেতনার বাতিঘর। তাঁর অকাল মৃত্যু হলেও তিঁনি বেঁচে থাকবেন তার আদর্শ, চেতনা এবং কর্মের মধ্য দিয়ে।

সাংবাদিক বিপ্লবী রবি নিয়োগী সভাকক্ষ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সুশীল মালাকারের সভাপতিত্বে এ স্মরণসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষাবিদ শিব শংকর কারুয়া, অ্যাডভোকেট নারায়ন চন্দ্র হোড়, প্রেসক্লাব সভাপতি শরিফুর রহমান, কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সাধরণ সম্পাদক মাসুম ইবনে শফিক, মহিলা পরিষদ নেত্রী আঞ্জুমান আরা যুথী, এসপিএস নির্বাহী পরিচালক আব্দুল মান্নান ভাষানী। এছাড়া সাংবাদিক আব্দুর রহিম বাদল, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, সাবেক ব্যাংকার রবিউল আলম, কবি রবীন পারভেজ, নারী উদ্যোক্তা আইরীন পারভীন, জনউদ্যোগ আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, উদীচী জেলা সভাপতি প্রভাষক তপন সারোয়ার, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি মোশারফ হোসেন তালুকদার, সঞ্জিব চন্দ বিল্টু, হারান চন্দ্র সাহা, আ.স.ম সোহেল নয়ন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অধ্যাপক শিব শংকর কারুয়া বলেন, আমজাদ হোসেন সাহেব যতদিন সক্রিয় রাজনীতি করেছেন, কোন কালিমা তাকে স্পর্শ করেনি। একজন সৎ ব্যবসায়ী হিসেবেও তিনি সুবিদিত ছিলেন। তিঁনি আমাদের নিকট থেকে চলে গেলেও বেঁচে থাকবেন তাঁর চেতনা ও আদর্শের মধ্য দিয়ে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাকশাল গঠনের পর দেশে ৬০টি জেলা ঘোষণা করলেও শেরপুর তখন বাদ পড়ে যায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সাথে শেরপুরের তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সাক্ষাতের পর বঙ্গবন্ধু শেরপুরকে ৬১ তম জেলা হিসেবে ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাতকারী ওই দলের একজন ছিলেন আমজাদ হোসেন। বঙ্গবন্ধু যখন বলেছিলেন, যা আর হবেনা। তখন আমজাদ হোসেন বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, আপনিতো শুন্য দিয়ে কিছু শুরু করেন না। তার এমন বুদ্ধিদীপ্ত কথায় তখন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, যা শেরপুরকে ৬১ তম জেলা করেদিলাম।

জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নারায়ন হোড় বাচ্চু বলেন, তাঁর সততা ছিলো প্রশ্নাতীত। তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ সাংস্কৃতিক সংগঠক ছিলেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাতিঘর। তাঁর মতো অসাম্প্রদায়িক মানুষ বিরল। সত্য কথা অনেকে দৃঢ়তার সাথে বলতে পারেনা। কিন্তু আমজাদ হোসেন অপ্রিয় হলেও সামনাসামনি সত্য প্রকাশ করার সাহস রাখতেন। তাঁর এসব গুণগুলোই আমাদেরকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আমজাদ হোসেনের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি মুক্তিযুদ্ধের ছাত্র সংগঠক মো. আমজাদ হোসেন (৭১) গত ৩১ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর