আজ মঙ্গলবার সকাল ৬:১১, ১৭ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ২রা কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৬শে মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

ওরা কার জায়গায় খেলবেন?

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : মার্চ ১২, ২০১৭ , ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : খেলাধুলা
পোস্টটি শেয়ার করুন

একটা নয়, অনেক গুলো নাম। নাসির, নাফিস, মোসাদ্দেক, নাইম…। এরা আমাদের ঘরোয়া লীগের লংগার ফরম্যাটে এখন রান ম্যাশিন। কিন্তু জাতীয় দলের নির্বাচকদের কাছে তারা নিতান্তই অবান্তর নাম! তারা টেস্ট দলে কিভাবে জায়গা পাবে? খুবই কঠিন একটা প্রশ্ন। কার জায়গায় খেলবে? সবাই তো ভাল খেলছে…

শাহরিয়ার নাফিস যেখানে ঘরোয়া লীগে রানের ফুলঝুরি ছোটাচ্ছেন, ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকাচ্ছেন, নাসিরের ব্যাট সেখানে কথা বলছে প্রায় প্রতি ম্যাচেই। নাসিরের রান করে যাওয়ার ব্যাপারটা তো বেশ পুরানো খবরই। এইতো কয়েকদিন আগে দ্বিশতক করলেন শাহরিয়ার নাফিস। অথচ তিনি বরাবরই অবহেলিত!

আগামী দিনের ব্যাটিং মায়েস্ট্রো বা কাণ্ডারি যাকে ভাবা হয় সেই মোসাদ্দেকও বসে আছেন রিজার্ভ বেঞ্চে, কাটাচ্ছেন অলস সময়। যদিও মাত্র ২১ বছর বয়সে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ৩টি ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে তার! নাইম ইসলাম বা তুষার ইমরান ও কম যান না লংগার ভার্সন ক্রিকেটে। তাদের ব্যাট ও কথা বলছে হরহামেশাই।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আমাদের টেস্ট দলে এখন অটো চয়েস। কিন্তু এই অটো চয়েস টেস্টে কেমন করছেন তা তো আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি, এই টেস্টেও দেখলাম। খারাপ ফর্ম থাকলে বিশ্বের নামীদামী ক্রিকেটাররা যেখানে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে যান, সেখানে আমাদের এখানে ব্যতিক্রম।তারা বাদ পড়েন না, কারণ তারা নাকি বড্ড সিনিয়র!

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ টেস্টে সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেছেন ২০১০ সালে এবং সেইটাই প্রথম এবং শেষ এখন পর্যন্ত! এরপরও তিনি অটো চয়েজ, দলের স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যান! এটা সত্য যে, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আমাদের ওডিআই এবং টি-টুয়েন্টি দলের অপরিহার্য সদস্য।মাশরাফি পরবর্তী এই দুই ফরম্যাটের কাপ্তান হিসেবেও তিনিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। এ কথা কারো অজানা নয়।

কিন্তু টেস্টে? অবশ্যই নয়। এতোগুলো সুযোগ নষ্ট করার পর তো এই কথা জোরালো হবেই। এক ম্যাচে  ৫০ করে তিনি কয়েক ম্যাচ হেসেখেলে উইকেট দিয়ে আসবেন, এটা কেমন কথা?

মমিনুলের ব্যাটিং গড় ঈর্ষনীয়। কিন্তু অনেকদিন হয়ে গেল তিনি নিজেকে কোন ভাবেই মেলে ধরতে পারছেন না, স্বয়ং কোচই নাকি চিন্তিত মমিনুলকে নিয়ে। পাঁচ ছয় ইনিংস খেলে একটা হাফসেঞ্চুরি করে টিকে যাচ্ছেন! তাকে কি একটা ব্রেক দেওয়া যায় না?

ঘরোয়া লীগে পারফর্ম করা আর আন্তর্জাতিক ভাবে নিজেকে মেলে ধরা এক কথা নয়। কিন্তু জাতীয় দলের যাদের কথা এখানে বলা হচ্ছে তারা ঘরোয়া লীগের ঐ ফ্লাট পিচেও সেরকম কোন পারফর্মেন্সও দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য সুখবর ইনফরম ইমরুল কে পাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু সৌম্যও রানের দেখা পেয়েছে। এখন নিজেকে অসংখ্য বার প্রমাণ করা ইমরুল তাহলে কার জায়গায় খেলবেন?

আছেন সাকিব আল হাসান। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই যিনি কিনা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। তিনি নিউজিল্যান্ড সফরে ডাবল সেঞ্চুরি করে এসেছেন।তাকে বোলিংও করতে হয়।স্পেশালিষ্ট স্পিনার তাইজুল কে না খেলানোয় তার উপর চাপ অনেক! যার ফলে তাকে একটু অস্থির দেখাচ্ছে ব্যাটিংয়ে। আর কতই বা করবেন? অলরাউন্ডার সাকিবের তো আর বাদ পড়ার প্রশ্ন নেই, প্রশ্ন নেই অবশ্য মিরাজেরও।

অস্থিরভাবে কিভাবে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসা যায় সাকিব এই ম্যাচে তা সবচেয়ে ভালভাবে দেখিয়ে এসেছেন। তিনি যদি এভাবেই খেলেন তো আট নম্বরে মিরাজ আর সাত নম্বরে সাকিব কে খেলানোই সবচেয়ে ভাল ডিসিশান কি নয়? তাহলে প্রথম ছয় পজিশনে ছয়জন স্পেশালিষ্ট কে দিব্যি খেলিয়ে দেওয়া যায়।

সত্যিই এই অবহেলিত শাহরিয়ার নাফিস, নির্বাচকদের চোখের বিষ নাসির হোসেন, মোসাদ্দেক, ইমরুলরা তাহলে কার জায়গায় খেলবেন? তারা কী তাহলে অবহেলিতই রয়ে যাবেন? আমরা বরং ধৈর্য ধরি..