ইছামতী নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন, ২০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

সীমান্ত নদীর ইছামতীর সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তিন নং পোল্ডারের সাতবসু এলাকার ১০০ মিটার বেড়িবাঁধ আকষ্মিক ভাঙ্গান দেখা দেওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। রবিবার দুপুর দু’টার পর থেকে এ ভাঙ্গন শুরু হলে সোমবার বিকাল পর্যন্ত তা বিশাল আকার ধারণ করে। ফলে ভাড়াসিমলা ও নলতা ইউনিয়নের কমপক্ষে ২০টি গ্রামের মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন।

ভাড়াসিমলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা খান আসাদুর রহমান বলেন, গ্রাম ডাক্তার আব্দুল কাদেরসহ কয়েকজন জানান, সীমান্ত নদী ইছামতীর সাতবসু এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিন নং পোল্ডার রবিবার দুপুর দু’টার দিকে হঠাৎ করে ভাঙ্গান দেখা দেয়। ক্রমশঃ ভাঙ্গনের বড় অংশ সোমবার বিকাল পর্যন্ত বেড়ি বাঁধের দুই তৃতীয়াংশ নদী গর্ভে চলে যায়।

খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ- সহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল হক ও কার্য-সহকারী শফিকুল ইসলাম, জয় কুমার সরকার ঘটনাস্থলে এসে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানালে নিবার্হী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক ও উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে নদী থেকে একটি কারগো ও তিনটি ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে বালি তুলে প্রতিটি ১৭৫ কেজি ওজনের ৫০০টি জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ সংস্কার কাজ শুরু করেন।

খবর পেয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোজাম্মল হক রাসেল, ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ বিশ্বাস এবং নলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল হক পাড় ঘটনাস্থলে যেয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ করার জন্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।

সোমবার বিকালে সরজমিনে সাতবসু এলাকায় গেলে দেখা গেছে জি,ও ব্যাগ দিয়ে বালি ভরে বাঁধের বাহিরে একশ মিটার রিং বাঁধ তৈরি করার জন্য ৩০/৪০জন শ্রমিক কাজ করছে। আবুল হোসেন, মনিরুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, দেব প্রসাদ, দেবন সরকারসহ কয়েকজন জানান, নদী থেকে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়পক্ষই বালি তোলার ফলে এ সীমান্তে বেড়িবাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। নদী বাঁধ ভেঙ্গে যে কোন মুহুর্তেই পাল্টে যেতে পারে বাংলাদেশের মানচিত্র।

এছাড়া সাতবসুর বিপরীতে ভারতের কাঁটাখালি নামক স্থানে ইছামতী নদীতে ত্রিমুখী স্রোতের কারণে ওয়াপদা বেঁড়ি বাঁধের নীচে পলি না জমায় কিছু কিছু জায়গায় বেঁড়ি বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে। তাছাড়াও জোয়ারের প্রচন্ড স্রোত ছাড়াও নদীর ভাটার কারণে পানি নিচে নেমে গেলে আকষ্মিক এ ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে ভাঙ্গন মেরামত করা বা ভিতর দিয়ে বিকল্প রিং বাঁধ নিমার্ণ না করা গেলে বাঁধ ভেঙ্গে কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের সাতবসু , শুইলপুর, হিজলা, চন্ডিপুর, মার্কা, চালিতাবাড়িয়া, খারহাট, পূর্ব নারায়ণপুর, দমদমা, ব্রজপাটুলিয়া, চৌবাড়িয়া, নলতা ইউনিয়নের খাঞ্জিয়া, ছোট শেয়ারা, দুর দুরিয়া ও মাঘুরালীসহ কমপক্ষে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে যে কোন মুহুর্তে ওইসব গ্রামের লাখো মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড- ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক বলেন, বাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি রিং বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। রাতের মধ্যে যাতে বাঁধ মেরামত করে পানি ঢোকা বন্ধ করা যায় সেজন্য তারা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর