তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর সাভার জোনাল অফিস। নিয়মিত অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু তারা একদিক থেকে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, অন্যদিক থেকে স্থানীয় প্রভাবশালীরা রাতের আঁধারে আবারও সেই জায়গাগুলোতে অবৈধ সংযোগ প্রদান করে। এভাবেই চলছে এক ‘শেষ না হওয়া’ চলমান প্রক্রিয়া।
এরকম অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৮ নভেম্বর) ঢাকার সাভারের আশুলিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড কাঠগড়া দুর্গাপুর এলাকায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড সাভার জোনাল বিপনন অফিস অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক ২ হাজার বাসাবাড়িতে নেয়া অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।
সকাল থেকে শুরু হয়ে বিকাল পর্যন্ত ওই এলাকায় প্রায় ২ কিলোমিটার ব্যাপী অবৈধ বিতরণ লাইন তুলে ফেলা হয়। এতে ওই এলাকার প্রায় ২ হাজার বাসাবাড়িতে নেয়া অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। অভিযান চলাকালে অবৈধ সংযোগ কাজে ব্যবহৃত বিতরণ পাইপ এবং রাইজারগুলো খুলে জব্দ করা হয়।
সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (জোবিঅ) এর ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোঃ সায়েম এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- উপ-ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ, সহ-ব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান, সহ-ব্যবস্থাপক সাকিব বিন আব্দুল হান্নান, সহ-কর্মকর্তা এহসানুল হক, সহ-ব্যবস্থাপক ইদ্রিস আলী প্রমুখ সহ তিতাসের কারিগরি টিমের শ্রমিকগণ।
অভিযানের ব্যাপারে সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (জোবিঅ) এর ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোঃ সায়েম জানান, ‘আজকে সকাল থেকে শুরু হওয়া অভিযানে আশুলিয়া থানাধীন আশুলিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কাঠগড়া দূর্গাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ সংযোগগুলি বিচ্ছিন্ন করেছি।
এখানে অবৈধ সংযোগকারীরা আমাদের মূল গ্যাসের সরবরাহ লাইন থেকে অবৈধভাবে ২ ইঞ্চি ব্যাসের সংযোগ পাইপ ব্যবহার করে প্রায় ২ কিলোমিটারব্যাপী অবৈধ সংযোগ প্রদান করেছে। আমরা সেগুলি তুলে ফেলেছি। এতে আনুমানিক প্রায় ২ হাজার বাসাবাড়ীর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
গণমাধ্যমকে তিনি আরও জানান, অবৈধ সংযোগ গ্রহনকারী এবং তাদেরকে যারা সংযোগ প্রদান করেছে এসব বাড়ীর মালিকদের বিরুদ্ধে আমরা আইনী প্রক্রিয়ার ভিতরে যাবো।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় জানান, ‘এলাকার প্রভাবশালীরা ছাড়া এসব অবৈধ সংযোগ আর কারা দিবে? এপ্রসঙ্গে আশুলিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হোসেনের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন কয়েকজন।
কিন্তু মুঠোফোনে এব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আশুলিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এসবের সাথে জড়িত নই। আপনারা অবৈধ সংযোগগুলি এমনভাবে উঠায়ে ফেলেন যেন আর কখনও সংযোগ নিতে না পারে।
প্রসঙ্গত, অভিযান চলাকালে ওই এলাকায় যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক সাজ্জাদ এর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিলো।
বার্তাবাজার/এমকে