মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সাতক্ষীরা জেলা শাখার আয়োজনে রবিবার বিকালে পুরাতন আইনজীবী ভবনে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন, সাতক্ষীরা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কমরেড অধ্যাপক সাব্বির হোসেন।
সভায় বক্তব্যে রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য প্রকৌশলী কমরেড আব্দুর রহমান, উপাধ্যক্ষ কমরেড ময়নুল হাসান, কমরেড স্বপন কুমার শীল, কমরেড আব্দুর রউফ, কমরেড অজিত কুমার রাজ বংশী, কমরেড নির্মল কুমার সরকার, মফিজুল হক জাহাঙ্গীর, কমরেড শিবপদ গাইন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী আজীবন গরিব মেহনতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সংগ্রাম করেছেন। তিনি কখনো ক্ষমতার লোভ করেননি। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন কেন্দ্রীয় ভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি হিসাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী ভাষার দাবিতে যারা মিছিল করছিল তাদের মিছিলে গুলি করে হত্যা করে। সেই সমস্ত শহীদদের তিনি গায়বানা জানাযায় ইমামতি করেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ২১ দফা ইস্তেহার নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ১৯৫৫ সাল পল্টন ময়দানের জনসভায় পূর্ব বাংলার শায়েত্ব শাসনের দাবি তোলেন। ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে পশ্চিম পাকিস্তানীদের উদ্দেশ্য আসসালামু আলাইকুম ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানীদের বিদায় জানান। ১৯৬৮ তে ১০ দফা দাবি সপ্তাহ পালন করেন। আইয়ুব সরকারের পতনের ডাক দেন। ১৯৭০ এর ২৩ নভেম্বর পল্টনের জনসভায় তিনি স্বাধীন পূর্বে পাকিস্তান ঘোষণা করেন এবং পশ্চিমা শাসকদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ‘লাকুম দিনাকুম ওলিয়াদিন। ১৯৭৬ এর রাজশাহী হতে কানসার্ট পর্যন্ত ফারাক্কা মিছিল ও লং মার্চের নেতৃত্ব দেন। তিনি সারা জীবন কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের অধিকার আদায় আন্দোলন করেছেন এবং মুক্তিযুদ্ধে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই সভা থেকেই আজীবন সংগ্রামী ত্যাগী নির্মহ মানুষটির জন্য সাতক্ষীরা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস