স্যার না বললেই ক্ষেপে যান, করেন গালিগালাজও

‘স্যার সম্বোধন না করলেই ক্ষেপে যান তিনি। করেন গালিগালাজও। বলেন, ‘আমি আপনার কেমন ভাই, কোন সম্পর্কের ভাই? এর উত্তর দিতে না পারলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানূর রহমান। যাকে বর্তমানে মাগুরার মহম্মদপুরে বদলি করা হয়েছে। তবে, তিনি এখনও যোগদান করেননি।

কেশবপুর উপজেলার একাধিক ব্যক্তি এমন অভিযোগ তুলেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, বিভিন্ন অভিযোগের কারণেই কেশবপুর ইউএনওকে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলাতে বদলি করা হয়েছে।

তবে, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, জনস্বার্থে মিজানূর রহমানকে মাগুরা জেলার মহম্মদপুরে বদলি করা হয়েছে। আগামী দু’য়েকদিনের মধ্যেই কেশবপুরে নতুন ইউএনও’র পোস্টিং দেওয়া হবে।

জানা যায়, ইউএনও মিজানূর রহমান ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট কেশবপুরে যোগদান করেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। চলতি বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কেশবপুরে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সরাসরি বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন প্রার্থী এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা। এতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ভোট চলাকালীন এক সপ্তাহ মিজানূর রহমানকে কেশবপুর থেকে প্রত্যাহার করে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

সম্প্রতি হিন্দু ধর্মালম্বীদের প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে গালিগালাজ ও কটূক্তির গুরুতর অভিযোগ ওঠে ইউএনও’র বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন ও শৃঙ্খলা অধিশাখার উপ-সচিব মো. ছাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে ঘটনাটি খুলনা বিভাগীয় কমিশনারকে তদন্ত করে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। পরে গত ১৩ নভেম্বর যশোরের স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মো. নূর-ই-আলম কেশবপুরে এসে তদন্ত করেন।

কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমীন বলেন, উনি (ইউএনও) মানুষের সঙ্গে দুর্বার ব্যবহার করতেন। খারাপ আচরণ করেছেন। যে কারণে তিনি বিতর্কিত। তিনি উচ্চ শিক্ষিত মানুষ কিন্তু ওনার আচরণ সেরকম না। এ সমস্ত ব্যাপারে তাকে বদলি করা হয়েছে।উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর আনারসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। যে কারণে ওই সময় নৌকা পরাজয় ঘটে।এসব নিয়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছি।

তিনি বলেন, কেশবপুরে এবার ৯৩টি দুর্গা পুজা হয়। তার মধ্যে ৫টি মন্দির কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কারণে প্রতিমা বিসর্জন দিতে পারেনি। ওইদিন রাত ১০টার মধ্যে বিসর্জন না দেওয়ায় ওই মন্দির কর্তৃপক্ষের লোকজনকে ডেকে গালিগালাজ করেন তিনি। পরে হিন্দু নেতারা আমার কাছে অভিযোগ করেছেন।

কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভ্যান চালককে পেটাল, মানুষকে অকারণে হয়রানি করতেন তিনি। উনি কেশবপুর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কাজ করেছে সব সময়। উপজেলা নির্বাচনে উনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছে। দুর্গা মূর্তি বিসর্জন নিয়ে তিনি যা বলেছেন তা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল।

তিনি বলেন, আমি লোকমুখে শুনেছি তাকে স্যার বলে না ডাকলে তিনি রেগে যান। গালিগালাজ করেন। যশোরের একাধিক সংবাদকর্মীও বলেছেন, ইউএনও মিজানূরকে ‘স্যার’ না বললে অখুশি হন।

বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানূর রহমান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ শুনেছেন, তা সত্য নয়। আপনি কেশবপুরের জনগণের কাছে আমার ব্যাপারে শুনে দেখবেন।’

‘স্যার না ডাকলে রেগে যান’ কেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আপনি তো আমাকে ‘ভাই’ বলে ডাকছেন, আমি কী রেগে গেছি? এটাও ভুল। ইউএনও বলেন, ‘আমি মনে করি না আমাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। তবে, আমি এখনও বদলির কাগজপত্র পাইনি। জেলা প্রশাসকও আমাকে এখনো রিলিজ দেননি। রিলিজ দিলে মাগুরার মহম্মদপুরে যোগদান করবো।’

দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের বিষয়ে হিন্দু নেতাদের ডেকে গালাগালির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটার বিষয়ে যা শুনেছেন সেটা সঠিক নয়। গালাগালির মতো তেমন কিছু ঘটেনি।’

কেশবপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক গৌতম রায় বলেন, ‘৫টি দুর্গা প্রতিমা দেরিতে বিসর্জন দেয়ায় ইউএনও অফিসে নিয়ে তিনি আমাদের কয়েকজনকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করেন। এটা নিয়ে আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অভিযোগ করেছি।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর