বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফহাদ হত্যার এজাহারভুক্ত আসামি শামীম বিল্লাহকে আবরার নিজেই টিউশনি ঠিক করে দিয়েছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান।
ওই স্ট্যাটাসে শামীম ছাড়াও আবরারের খুনি মিজান, মোয়াজ ও তোহা সম্পর্কে তথ্য জানান আবরার ফাইয়াজ। বার্তা বাজার’র পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
“ভাইয়া মারা যাওয়ার আগে ভাইয়ার শেষ কথা যা তখন পাশে থাকা ব্যাচমেটদের বলেছিল: “তোদের সাথে কোনো ভুল করে থাকলে আমাকে মাফ করে দিস। আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিও।বলে কালেমা পড়ে।”
অথচ এই খুনিদের মধ্যে:
১.মিজান: হলের অনেকেই তাকে অনেক খারাপ জানলেও তারা ভাইয়ের কাছ থেকে জানতে পারে মিজান নাকি অনেক ভালো। বাকি রুমমেট দের মতবাদ অনুযায়ী রুমে মিজানের সবচেয়ে বেশি সখ্যতা ছিল ভাইয়ার সাথে। কোথাও বাইরে খেতে গেলে নাকি ভাইয়াকে ছাড়া যেতই না।
২.মোয়াজ: ভাইয়ার রোল ৯৮ তার ১০৬। ভাইয়ার সাথে তার ভালো বন্ধুত্ব থাকলেও সে সেখানে উপস্থিত ছিল।
৩.তোহা: ভাইয়ার ১০৭এর রুমমেট। যার সাথে দীর্ঘ সময় থাকায় ভালো সম্পর্ক ছিল।
৪.শামীম বিল্লাহ: একে টিউশন ঠিক করে দিয়েছিল ভাইয়া।
৫.খুনিদের মধ্যে ২জন কয়েকদিন আগেই সিলেটে গেছিল ভাইয়ার সাথে।
আসলে এদের তো সন্দেহ করার কোনো সুযোগ ছিল না যে এরাই এমন ষড়যন্ত্র করছে।।।
আগে একটা প্রবাদ পড়তাম: দুঃসময়ের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু(A friend in need is a friend indeed),,,,
বাবা-মা ছোট থেকে বলত বন্ধু থাকা ভালো না যখন কিছু হবে না তখন এরা সবসময় সাথে থাকবে কিন্তু বিপদে পড়লে দেখবি কোনো বন্ধুকে খুজে পাবি না।।।। তখন অগ্রাহ্য করলেও এখন ঠিক বুঝেছি কথাগুলা আসলেই ঠিক ছিল।।।যতই ভাই বলে ডাকা হোক না কেন বিপদে রক্তের সম্পর্ক ছাড়া কেউ আসে না।।🙂
(মৃত্যুর পর বুয়েটের ভাইয়ারা যা করছে তার জন্য আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞ।)”

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর চকবাজারে অবস্থিত বুয়েটের শেরে বাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২৫ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় ২৫ আসামির মধ্যে বর্তমানে ২১ আসামি কারাগারে আছেন।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস