মাত্রাতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করা পেঁয়াজে পচন ধরার ফলে আমদানিকারক ও মজুতদারের বেশি লাভের আশা ভেস্তে গেছে।
ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর মিয়ানমারের ১৪-১৫ জন পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশের আমদানিকারকদের যোগসাজশে খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা অল্প দামে কেনা পেঁয়াজ বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নানান কারসাজি করে। জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে একের পর এক বাজার তদারকি অভিযান ও জেল জরিমানা করা হলেও পেঁয়াজে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের মাঝে কোন প্রভাব পড়েনি। উল্টো দিন দিন পেঁয়াজের দাম বাড়াতেই থাকে।
এতদিন পাইকারী বাজারে পেঁয়াজের দাম ৫৮-৬০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি করার জন্য প্রশাসনের নির্দেশনা থাকলেও পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা ১১০-১২০ টাকা পাইকারি ও খুচরা বাজারে ১৩০-১৪০ টাকায় পেঁয়াজ বেচাকেনা অব্যাহত রাখে। যে অস্বাভাবিক ও অনৈতিক বেচাকেনার হার কদিন আগে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত হানার পর এখন প্রতিকেজি পেঁয়াজ ২০০-২৫০ টাকায় গিয়ে দারিয়েছে।
পেঁয়াজের এমন অস্বাভাবিকভাবে দাম বৃদ্ধির জন্য পেঁয়াজের সরবরাহ ঘাটতির কথা বললেও দেখা যায় অতিরিক্ত লাভের আশায় বেশি সময় ধরে মজুদ করা পেঁয়াজে পচন ধরার ফলে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বহুগুণ বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রির আশায় মজুতকৃত পেঁয়াজ এখন নদীতে ভাগাড়ে ফেলে দিতে হচ্ছে। খাতুনগঞ্জের কয়েকটি আড়তে পচে যাওয়া মিয়ানমারের পেঁয়াজ ফেলে দেওয়া হচ্ছে নদীতে-ভাগাড়ে। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর নগরের ফিরিঙ্গি বাজার ব্রীজঘাট এলাকায় ১০-১৫ বস্তা পচা পেঁয়াজ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ী পেঁয়াজের এমন দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানির সময় ও আবহাওয়াকে দায়ী করে বলেন, মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আসতে সময় লাগে। এতে গরমে পেঁয়াজ পঁচে যায় ও পঁচা পেঁয়াজের প্রভাবে ভালো পেঁয়াজের মানও কমে যায়। তাই আমদানিকারকরা লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন বিধায় পেঁয়াজের দাম এত বেড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাতুনগঞ্জের এক শ্রমিক বলেন, বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্দেশ্যে পেঁয়াজ জমা করে রাখাতে আড়তদারদের এই দশা দারিয়েছে। আড়তে রাখা পেঁয়াজ দ্রুত পচে যাচ্ছে। প্রতিটি আড়তে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ বস্তা করে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) খাতুনগঞ্জে কয়েকটি আড়তে গিয়ে দেখা যায়, বস্তাভর্তি পেঁয়াজ পচে মাটিতে পড়ে আছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এলাকায়। শ্রমিকরা এসব পেঁয়াজ ভাগাড়ে নিয়ে ফেলছেন। এছাড়া কর্ণফুলী ব্রিজ ঘাটের কিছু ব্যবসায়ী কম দামে পঁচা পেঁয়াজ কিনে তা শুকিয়ে ১১০-১২০ টাকা দরে বেচাকেনা করছেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদ আলম জানান, ‘রাতে খাতুনগঞ্জের ময়লার ভাগাড়ে বস্তায় বস্তায় পচা পেঁয়াজ ফেলে যাচ্ছে খাতুনগঞ্জের শ্রমিকরা। কর্ণফুলী নদীর পাড়েও পচা পেঁয়াজ ফেলে দেওয়া হয়েছে। পাঁচ টন ধারণক্ষমতার চারটি গাড়ি দিয়ে এসব বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, এর আগে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাতে খাতুনগঞ্জে সিটি কর্পোরেশনের ময়লার ভাগাড় থেকে প্রায় ২০ টন পচা পেঁয়াজ সরিয়েছে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস