হারের পথে বাংলাদেশ

হতাশার মাঝে আলো ছড়াচ্ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে দারুণ জুটি গড়েছিলেন তিনি। তাতে কিছুটা হলেও প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল। তবে চা বিরতির পরই সর্বনাশ! উমেশ যাদবের বলে পরিষ্কার বোল্ড হয়ে ফিরলেন মিরাজ। ফেরার আগে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি।

মিরাজের বিদায়ে ভাঙল ৫৯ রানের জুটি। ফলে হারের শংকা জেঁকে বসেছে বাংলাদেশের কাঁধে।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২০৩ রান করেছে তারা। ইনিংস হার এড়াতে এখনো দরকার ১৪০ রান।৫৮ রান নিয়ে ব্যাট করছেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন তাইজুল ইসলাম।

দ্বিতীয় দিনের ৬ উইকেটে ৪৯৩ রানেই নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। এতেই ৩৪৩ রানের লিড নেয় তারা। ফলে তৃতীয় দিনে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েস ও সাদমান ইসলাম দিনের খেলা শুরু করেন।

তবে আশা দেখাতে পারেননি তারা। নড়বড়ে ব্যাটিংয়ে দ্রুত সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার। দিনের সূচনালগ্নে উমেশ যাদবের স্ট্যাম্পের বল ক্রস ব্যাটে খেলে সোজা বোল্ড হয়ে ফেরেন ইমরুল। সেই রেশ না কাটতেই ইশান্ত শর্মার বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে ফেরেন সাদমান। তার আউটের দৃশ্যটিও একইরকম। ভীষণ দৃষ্টিকটুও বটে।

ওয়ানডাউনে নেমে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি অধিনায়ক মুমিনুল হক। মোহাম্মদ শামির বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। যদিও প্রথমে তাতে সাড়া দেননি অনফিল্ড আম্পায়ার। পরে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি রিভিউ নিলে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন তিনি। এতে চাপে পড়েন সফরকারীরা।

সেই পরিস্থিতিতে প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হন মোহাম্মদ মিঠুন। শামিকে স্কয়ার লেগে খেলতে গিয়ে আগারওয়ালকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এ মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। তাতে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর ধারাবাহিক বিরতিতে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যদিও লড়াইয়ের চেষ্টা করেন তিনি। তবে হঠাৎ শামির অফস্টাম্পের বাইরের বল খোঁচা দিয়ে স্লিপে রোহিত শর্মাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এ অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।

টপঅর্ডার-মিডলঅর্ডারের ব্যাটসম্যানরা নিয়মিত বিরতিতে এলে-গেলেও একপ্রান্ত আগলে রাখেন মুশফিক। ধ্বংস্তূপের মধ্যে লিটন দাসকে নিয়ে খেলা ধরার চেষ্টা করেন তিনি। কিছুক্ষণ সতীর্থের কাছ থেকে ভালোই সমর্থন পান মিস্টার ডিপেন্ডেবল। তবে আচমকা থেমে যান লিটন। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। এতে ভাঙে ৬৩ রানের প্রতিরোধমূলক জুটি।

তারপর মিরাজকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান মুশফিক। সহযোদ্ধার কাছ থেকে যথার্থ সমর্থনও পান। পথিমধ্যে টেস্ট ক্যারিয়ারে ২০তম ফিফটি তুলে নেন তিনি। এর সঙ্গে বাংলাদেশ সাবেক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আশরাফুলকে ছাড়িয়ে যান মিস্টার ডিপেন্ডবল।এতদিন ভারতের বিপক্ষে সাদা পোশাকে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান ছিল অ্যাশের। ১১ ইনিংসে ১ সেঞ্চুরি ও ২ ফিফটিতে ৪২.৮৮ গড়ে ৩৮৬ রান করেন তিনি। এদিন ব্যক্তিগত ৮ রান করেই তাকে ছাড়িয়ে যান টাইগার উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন মুশফিকুর রহিম। সতীর্থদের যাওয়া-আসার মিছিলের মধ্যে করেন ৪৩ রান। দ্বিতীয় ইনিংসেও লড়ছেন তিনি। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ইতিমধ্যে সংগ্রামী ফিফটি তুলে নিয়েছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল।

এর আগে যাচ্ছেতাই বাজে ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনীতে প্রথম ইনিংসে ১৫০ রানে অলআউট হন টাইগাররা। পরে মায়াঙ্ক আগারওয়ালের ২৪৩ রানের মহাকাব্যিক ডাবল সেঞ্চুরি এবং আজিঙ্কা রাহানের ৮৬ রানের অনবদ্য হাফসেঞ্চুরিতে ৪৯৩ রানের পাহাড় গড়ে ভারত।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর