প্রকাশ্যে সরকারি রাস্তার ইট তুলে বাড়ির রাস্তা তৈরি

নড়াইল সদরের কৃষিপ্রধান মুলিয়া ইউনিয়ন। মুলিয়া বাজার থেকে কোড়গ্রামের ভিতর দিয়ে বিলে যাবার রাস্তাটি গ্রামের প্রধান সড়ক। কয়েক বছর আগে নানা প্রকল্পের মাধ্যমে এই রাস্তা হয়েছে। সম্প্রতি এই রাস্তায় নতুন প্রকল্প পাশ হওয়ার দোহাই দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বার আর প্রভাবশালী কয়েকজন মিলে রাস্তার প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকার ইট তুলে নিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো বাড়ির রাস্তা তৈরি শুরু করেছেন।

প্রকাশ্যে গত ৩ দিন ধরে রাস্তার ইট চুরি করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার শুরু করায় এলাকার সাধারণ মানুষ এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হলেও বাধা দেবার সাহস পায়নি। সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার কোড়গ্রামের রাস্তায় গিয়ে এ ঘটনার সত্যতা মিলেছে।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, মুলিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কোড়গ্রাম প্রধানত জেলে সম্প্রদায়ের বসবাস। নদীর কুল ঘেষে থাকা গ্রামটিতে প্রায় ৬০০ পরিবার বাস করে। এলাকার কৃষকদের বিলে যাবার, ছেলে-মেয়েদের স্কুলে সহ সদরে আসার একমাত্র রাস্তাটি কোড়গ্রাম থেকে স্লইচ গেট পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় দুই কিলোমিটারের এই সড়কটির নানা অংশ জেলা পরিষদ, এলজি এসপি, উন্নয়ন প্রকল্প দ্বারা নির্মিত। ত্রাণ ও পূণর্বাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় সড়কটি নতুনভাবে করা হবে-এই দোহাই দিয়ে স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আনন্দ কুমার বিশ্বাস রাস্তার ইট তুলে নিজ বাড়ির সামনের রাস্তায় কাজ করাচ্ছেন। রাস্তার ইট তুলে তৈরি করা হয়েছে গ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী দীপক রায়ের বাড়ির রাস্তাটি। আরেকজন প্রভাবশালী বিকাশ রায়ের বাড়ির রাস্তা তৈরি করতে গাদি দেওয়া হয়েছে কয়েক হাজার ইট।

এদিকে গত ৩/৪ দিন ধরে ভালো রাস্তার ইট খুলে নেয়ায় রাস্তাটি এবড়ো থেবড়ো হয়ে গেছে, বালি আর মাটিতে একটি ভ্যানও চলতে পারছে না। এই অবস্থায় রাস্তার মাটিতে প্রায়ই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে শিশু আর বৃদ্ধরা। এলাকার সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হলেও ভয়ে ইট তোলায় বাধা দিতে পারেননি। ফলে এখন একমাত্র রাস্তাটি কাচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। সামনে ফসলের মৌসুম, তাই স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা কবে নাগাদ রাস্তা তৈরি হবে ততদিনে বৃষ্টিতে রাস্তা একবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে দূর্ভোগ বাড়াবে।

মুলিয়া ইউপির সাবেক ইউপি মেম্বর প্রবীণ অরুন বিশ্বাস বলেন, রাস্তার কাজের কোনো ঠিক নাই। কবে হবে তাও কেউ জানে না, আর ভালো রাস্তার ইট সব তুলে নিয়ে গেল। চেয়ারম্যান-মেম্বার মানুষের ভালো না করে খারাপ করল।

সাবেক ইউপি মেম্বার বিপুল কুমার বিশ্বাস বলেন, সরকারী রাস্তার ইট এভাবে চুরি করে ব্যক্তিগত কাজে লাগিয়ে এরা রাস্তাটি ধ্বংস করল। কতদিনে এই রাস্তা হবে তার ঠিক নেই। ততদিন আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হবে।

এদিকে রাস্তার ইট চুরির মুল হোতা মুলিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বর আনন্দ কুমার বিশ্বাস বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমি এই রাস্তার এলজিএসপি অংশের ইট নিচ্ছি। তবে এটি আমার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার হচ্ছে না।

ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, এই রাস্তায় একটি বড় প্রকল্প হবে। তাই আমি বলেছি ইট তুলে অন্য রাস্তা তৈরি করতে। তবে জেলা পরিষদ অংশের ইট বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।

সরকারি রাস্তার ইট তুলে ফেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই রাস্তা কাজের টেন্ডার হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে নড়াইল সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.আজিম উদ্দিন জানান,ওই রাস্তায় ত্রানের কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে মাত্র। তবে আমি মুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানকে বলেছিলাম রাস্তা থেকে ইট না নেবার জন্য।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর