মোটরসাইকেলের লাইসেন্স চেক করার সময় কথা কাটাকাটির জের ধরে হুমায়ুন কবির নাহিদ নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর গেটে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ‘সরি’ বলেন রাজশাহী পুলিশের মতিহার জোনের সহকারী কমিশনার মাসুদ রানা। পরে অভিযুক্ত পুলিশ কন্সটেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান। তবে মারধরে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলের নাম জানা যায়নি।
মারধরের শিকার হুমায়ূন কবির নাহিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ।
ভুক্তভোগী নাহিদ বলেন, পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে পিটিয়েছে। আমি সেই কন্সটেবলসহ যারা যারা জড়িত ছিল তাদের বিচার চাই। ক্যাম্পাসের ভিতরে তারা কোন সাহসে একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করতে পারে!
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর গেট দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশকালে নাহিদের বাইক আটকে কাগজপত্র দেখতে চান পুলিশ সদস্যরা। নাহিদ নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে চাইলেও পুলিশ তার কাগজপত্র দেখতে চান। তখন নাহিদ তার বাইকের কাগজপত্র দেখান। মোটরসাইকেলের কাগজে নাহিদের নাম ছিল না, সেখানে তার বড় ভাইয়ের নাম ছিল। তখন সেখানে থাকা মতিহার জোনের সহকারী কমিশনার মাসুদ রানা নাহিদকে থানায় তুলে নিয়ে যেতে বলেন। এ সময় নাহিদের সাথে এক পুলিশ কনস্টেবলের কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির জের ধরে পুলিশ সদস্যরা নাহিদকে জনসম্মুখে মারধর শুরু করে। তারপর তাকে হাতকড়া পড়িয়ে পুলিশ জিপে তুলে থানায় নিয়ে য়ায়। এবং আধা ঘন্টা পরে পুলিশ আবার তাকে বিনোদপুর গেটে নিয়ে আসে।
পরে পুলিশের সহকারী কমিশনার মাসুদ রানা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন এবং তিনি একপর্যায়ে সরি বলেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হুমায়ুন কবির হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি জানার পর আমরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ওই শিক্ষার্থী ও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে নিয়ে বসেছি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ যারা অভিযুক্ত ছিলেন সকলে ক্ষমা চেয়েছেন।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস