রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসনের দুর্নীতি ও নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে প্রশাসনের অপসারণের দাবিতে অব্যাহত আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১১ তম দিনের মত মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের জোট মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একাংশ। ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ’ এর ব্যানারে সোমবার বেলা ১১টায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
তবে মানববন্ধন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ তম সমাবর্তন উপলক্ষে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলমান আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।
মানববন্ধনে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী বলেন, এমন একটি নির্লজ্জ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বর্তমানে দায়িত্বে আছেন যারা নিজের জামাই নিকটাত্মীয়দের কে নিয়োগ দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তন করেছেন। এই প্রশাসনকে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন না বলার কোনো উপায় নেই।
তাদেরকে আমরা যে চ্যালেঞ্জ দিয়েছি তারা নিজেদের প্রমাণ করুক তারা দুর্নীতিগ্রস্ত না, তারা তা কেন গ্রহণ করছেন না? আমরা বলতে চাই, যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনারা দুর্নীতি বন্ধ না করবেন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সরে না যাবেন ততদিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।
আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, সামনে যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে সে কারণে আমরা আগামী ৩০ তারিখ পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করছি। আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে আমরা আপনাদেরকে সকলকে জানিয়ে দেব। এবং ৩০ নভেম্বরের পর যে আন্দোলন হবে সেই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্তরের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশ নেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
ভূতত্ত্ব ও খনি বিদ্যা বিভাগের সভাপতি সুলতান-উল-ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্যাহ, গণিত বিভাগের অধ্যাপক আসাবুল হক, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মুহাম্মদ আলী রেজা খান প্রমুখ।
বার্তাবাজার/এমকে