গতবারের তুলনায় ঠাকুরগাঁওয়ে এবার বেশিই শীতকালীন সবজি উৎপাদন হয়েছে। ধান ও গমে ন্যার্য মূল্য না পেলেও সবজিতে ইতিমধ্যেই সাফল্যের মুখ দেখছেন কৃষক। শীতের শুরুতেই বাজারে সবজি সরবরাহ এবং ভালো দাম পাওয়ায় খুশি এবার ঠাকুরগাঁওয়ে আগাম শীতকালীন সবজি চাষীরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ হাজার দুইশত ৪৮ হেক্টর জমিতে শীতের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৭ মেট্রিক টন। ২০১৮ সালের জেলার শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার হেক্টর এবং ২০১৭ সালে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৭ শত ৬০ হেক্টর।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়দেশ্বরী, পাটিয়াডাঙ্গী, গড়েয়া, ঢলোরহাট, মোলানখুড়ী, চামেশ্বরী, নারগুন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার গোয়ালকারী, সাবাজপুর, মধুপুর, ফটিয়াপাড়া, কাশুয়া খাদেমগঞ্জ রাণীশংকৈল উপজেলার রাউতনগর, নেকমরদসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় চাষ হয়েছে নানা জাতের সবজি। মাঠজুড়ে এখন করলা, বেগুন, টমেটো, লাউ, লাল শাক, পালং শাক, শিম, শসা, মিষ্টি কুমড়া, ডাটা, চিচিঙ্গা, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ নানা শীতকালীন সবজির সমাহার। কৃষক ও শ্রমিকেরা খেত থেকে সবজি তুলে সড়কের একপাশে স্তুপ করে রাখছেন। আর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা খুচরা পাইকারো নগদ টাকা দিয়ে সেই সবজি কিনছেন। ট্রাক ও ছোট পিকআপ দিয়ে পাঠাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন জেলায়।

মঙ্গলবার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বিক্রেতারা বেগুন ২৫ টাকা, মূলা ২০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা, বাধাকপি ৪০ টাকা, করলা ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও শাকের রয়েছে পর্যাপ্ত দাম। বিভিন্ন প্রজাতির শাকসবজির প্রতিটি আটি বিক্রি হচ্ছে ৫-৮ টাকা দরে।
সদর উপজেলার ইয়াকুবপুর গ্রামের রজনীকান্ত রায় এক একর জমিতে নাপাশাক ও লাল শাক রোপন করেছেন। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত লক্ষাধিক টাকার বেশি শাক বিক্রি করেছেন। খেতে যে পরিমাণ শাক আছে তা বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা পাওয়া যাবে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের গোয়ালকারী গ্রামের সবজি চাষী করিমুল ইসলাম জানান, এ বছর উচুঁ দেড় একর জমিতে করলা এবং এক একর জমিতে বেগুন চাষ করেছেন তিনি। শুরুতে ভাল দাম পাওয়ায় পরিবারের লোকজন শ্রমিকদের নিয়ে সবজি খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। এমন দাম থাকলে খুব শ্রীঘ্রই উৎপাদন খরচসহ লাভের আশা করছেন তিনি।
বাবার সাথে মাঠে কাজ করছেন করিমুল ইসলামের ছেলে আইয়ুব আলী। তিনি জানান, ধান ও গমের ঘাটতি পুরণ করতে পরিবারের সবাই সবজিতে খেতেই সময় পার করছি। বাজারে চাহিদা থাকায় অনেক সবজি ব্যবসায়ী মাঠেই আসছেন সবজি নিতে।
চাড়োল ইউনিয়নের সবজি চাষী নজরুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমিতে করলা চাষে তিনি ১৫ হাজার টাকা খরচ করেছেন। এছাড়াও বেগুন ক্ষেতে প্রতি বিঘায় খরচ করেছেন ১২-১৬ হাজার টাকা। করলা ও বেগুন বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন এক সপ্তাহ হলো। তিনিও লাভের আশা করছেন।
সদর উপজেলার সবজিচাষি হাসান আলী বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার শিক্ষিত বেকারও ঝুঁকছেন সবজি চাষে। উৎপাদিত এ সবজি যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারগুলোতে। শুরুতে দাম কিছুটা বেশি হলেও ভোক্তারা স্বাদ নিচ্ছে এসব সবজির।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফতাব হোসেন জানান, বীজ সার অন্যান্য কীটনাশক দ্রব্যাদি সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির কারণে কৃষকরা সকল ধরনের কৃষি উপকরণ গুলো পাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকার ফলে আশা করা যায় গত বছরের ন্যায় এবারো জেলায় প্রচুর পরিমানে সবজি আবাদ
হবে।
তিনি আরো বলেন, এই জেলার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় প্রয়োজন মিটিয়ে শুধু দেশের বিভিন্ন জায়গায় নয় বরং বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস