জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ‘মদদদাতা’ আখ্যা দিয়ে উপাচার্যে অপসারণ দাবিতে সংহতি সমাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা।
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে এই সংহতি সমাবেশ শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদের ডীন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনাকে উপাচার্য গণঅভ্যুত্থান বলেছেন। তার এ বক্তব্যে নতুন প্রজন্ম ভাবতে পারে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এমন ছিল। তারা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানকে ঘৃনা করবে। কিন্তুু ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান আর এই গণঅভ্যুত্থান এক নয়। তিনি শব্দচয়নে ভূল করেছেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করতে পারেন কিন্তু তা করবেন না। তিনি ছাত্রলীগের হামলাকে গণঅভ্যুত্থান বলে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অবমাননা করেছেন। এছাড়া তিনি ঐ দিনটি অত্যন্ত আনন্দের দিন বলেছেন আমরা তার নিন্দা জানাই।’
আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, সৈয়দ আবুল মকসুদ, আবুল কাশেম ফজলুল হাক, আনু মোহাম্মদ, ব্যারিস্টার শাহদিন মালিক, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, গীতি আর নাসরিন, কামরুল হাসান মামুন, রাখাল রাহা, অরূপ রাহী, ওমর তারেক চৌধুরি, রেহনুমা আহমেদ, জোনায়েদ সাকি, আ ক ম জহিরুল ইসলাম, খালেকুজ্জামান, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, নাসির উদ্দিন প্রিন্স, মেহেদি হাসান নোবেল, গোলাম মোস্তফা, শিমুল সালাউদ্দিন, জাহিদ আজিজ, আশীষ কুমার মজুমদারসহ প্রমুখ দেশবরণ্য ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়া সন্ধ্যা ৬টায় ‘গানে গানে সংহতি’ নামক একটি প্রতিবাদী গানের অনুষ্ঠান কর্মসূচীতে গান গাইবেন মুইজ মাহফুজ, পল্লব বসু, সোয়াইব. ঋজু নূরু, আবৃত্তি শিল্পি শোভন ও কনোজ।
এর আগে বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে ৬০ গজের ব্যঙ্গাত্মক উক্তি ও চিত্রাঙ্কিত ব্যানারটি প্রদর্শনের মাধ্যমে উপাচার্যের অপসারণ দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। পরে বিকাল ৩টার দিকে সংহতি সমাবেশ শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে উপাচার্যের অপসারণ দাবি করেন বক্তারা।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (০৫ নভেম্বর) উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন। এর প্রেক্ষিতে ঐদিন সিন্ডিকেটের এক জরুরী সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া গত বুধবার (০৬ নভেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ সকল ধরণের মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে উপাচার্য অপসারণের এক দফা দাবি নিয়ে এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস