গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ২ শিক্ষকের দ্বন্দ্বে উঠে এসেছে নানা অনিয়ম দুর্ণীতির অভিযোগ। উপজেলার ১৭৮নং লোহারংক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিপ্টী রানী পাল এবং সহকারী শিক্ষক ফিরোজা খানমের মধ্যে এ দ্বন্দ্ব ঘটে।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, উক্ত বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বিভিন্ন খাতে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ২ লক্ষ ৫ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ পায়। উক্ত বরাদ্দের টাকা দিয়ে শহীদ মিনার, মুক্তিযোদ্ধা/বঙ্গবন্ধু কর্ণার ও শিশু বান্ধব শ্রেণি করার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক তা করেন নি। সমুদয় টাকা তিনি বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখিয়েছেন। এ ছাড়াও স্কুলের ল্যাপটপ, সাউন্ড বক্স, মাল্টিমিডিয়া, পানির ফিল্টার সহ সরঞ্জামাদি স্কুলে না রেখে প্রধান শিক্ষকের বাসায় রাখা, স্কুল চলাকালীন সময়ে অন্য মহিলাদের ডেকে মাথা ম্যাসেজ করা, সময়মত স্কুলে উপস্থিত না হওয়া, ক্লাস না নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে প্রধান শিক্ষক লিপ্টি রানী পালের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক জানান- স্কুলের টেবিল নিজের বাড়ীতে রাখা সহ বিভিন্ন অনিয়ম উঠেছে এসেছে সহকারী শিক্ষক ফিরোজা খানমের বিরুদ্ধে।
প্রধান শিক্ষকের সাথে স্কুলে হাতা-হাতির ঘটনায় এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। সহকারী শিক্ষক ফিরোজা খানম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ গুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা সড়যন্ত্রমূলক।
প্রধান শিক্ষক লিপ্টী রানী পাল জানান, আমি টিও এবং এটিও স্যারের সাথে পরামর্শ করে সব কাজ করেছি। ম্যানিজিং কমিটির সদস্য মোঃ জাকির হোসেন, শিক্ষক দেলোয়ারা বেগম, কিবরিয়া বিশ্বাস, শাহিন তালুকদার, হেলাল দাড়িয়া, শাহানা বেগম, ইদ্রিস মল্লিক সহ একাধিক এলাকাবাসী সাংবাদিকদের জানান, প্রধান শিক্ষক লিপ্টী রানী পাল এবং সহকারী শিক্ষক ফিরোজা খানমের দ্বন্দের কারনে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আজ ধ্বংসের মুখে।
এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুছা বিশ্বাস বলেন, ২ শিক্ষকের দ্বন্দ্বের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ধংশ হতে বসেছে, বিষয়টি আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কয়েকটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছি। এ ব্যাপারে ডিপিও গোপালগঞ্জ- আনন্দ কিশোর সাহা এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতের টাকা পয়সা খরচের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, মানব বন্ধ এর ব্যাপারে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বার্তা বাজার/এম.সি