জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বিরোধী আন্দোলনকারীদের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে বাড়ির সদস্যদের ‘হয়রানি’ করছে বলে অভিযোগ করেছে আন্দোলনকারীরা।
রবিবার কয়েকজন আন্দোলনকারী এই তথ্য জানান। তারা হলেন- চলমান আন্দোলনের সংগঠক ও ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক, দপ্তর সম্পাদক হাসান জামিল, কার্যকরি সদস্য রাকিবুল ইসলাম রনি ও মুশফিক উস সালেহিন।
এই বিষয়ে হাসান জামিল তার ফেসবুক পোষ্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, ‘গত কিছুদিনে বেশ কিছু ঘটলো। গতকাল আমার বাসায় দুইবার পুলিশ গেল, প্রথমবার আমাকে না পেয়ে এলাকার মসজিদের মাইক ইউজ করে সামাজিকভাবে হেনস্তা করলো। আমার চোদ্দ গুষ্টি এমনকি আমার আপুর শশুরবাড়ির ডিটেইল সব কিছু নিয়ে গেল। তারপর আবার বাসায় ফোন দিয়ে থ্রেট করলো। মা অসুস্থ। পুলিশ বাসায় গিয়ে তারে থ্রেট করে। অথচ, এত মাস ধরে বলা বিচার বিভাগীয় তদন্ত আর হলো না।’

আন্দোলনের আরেক সংগঠক আরিফুল ইসলাম অনিক বলেন, ‘আমরা বাসায় একজন পুলিশ যায়। ফলে আমার পরিবার ভীতিসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। রাষ্ট্র তদন্ত করতে চাইলে তার একটা নিয়ম আছে। কিন্তু পুলিশ দিয়ে পরিবারকে এ ধরনের হয়রানিকে আমরা নিন্দা জানাই।’
আন্দোলনের আরেক সংগঠক মুশফিক উস সালেহিন বলেন, ‘পুলিশ আমার নানা বাড়িতে যায়। সেখানে আমার গোটা ফ্যামিলির বিস্তারিত তথ্য নেন। ফলে আমার পরিবার আতঙ্কগ্রস্ত। তারা আমাকে নিয়ে চিন্তিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে উপাচার্য তার পদ বাচাঁতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। উপাচার্য উর্ধ্বতন যোগাযোগের মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা মনে করি আন্দোলন যৌক্তিক। এই সময় বিভিন্ন ভয়ভীতি আসবে এটা স্বাভাবিক এবং আমরা এর মোকাবেলা করতেও প্রস্তুত।’
তিনি আরো বলেন, ‘আন্দোলন যৌক্তিক কী যৌক্তিক না এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলনকে দমনের চেষ্টা করা নিন্দনীয়। এই কর্মকান্ডের মাধ্যমে প্রমান করে ফারজানা ইসলাম দোষী । ফারজানা ইসলামের প্রশাসন নিজেদের দূর্নীতির ঢাকতে এই কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।’
এসব বিষয়ে আন্দোলনের সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘বিষয়টি হায়রানিমূলক ও আতঙ্কজনক। ফ্যামিলিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সন্তানকে বাসায় ফিরিয়ে নেওয়ার চাপ দিচ্ছে। আন্দোলনকে দমন করার এটা একটা ঘৃণ্য পন্থা। পুলিশকে দিয়ে এটা করানো হচ্ছে। জাবি প্রশাসনের ইন্ধনও থাকতে পারে।’
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘তারা তো অনেক কিছুই দাবি করে। তারা ক্যাম্পাসের আইন লঙ্ঘন করে মিছিল মিটিং করছে। তাদের গ্রামে কী হচ্ছে তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানে না।’
এদিকে এ ঘটনায় নিন্দা জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদ। এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল এবং সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, ‘সকল তত্ত্ব-উপাত্ত পাঠানোর পরও ভিসি ফারজানা ইসলামকে রক্ষা করার জন্য একের পর এক অবৈধ কাজ সরকার করে যাচ্ছে। আন্দোলন কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে এবং পরিবারের লোকজনদের সাথে প্রচ- খারাপ আচরণ করে তাদেরকে হেনস্তা করা হচ্ছে। সরকারি এই দমন নীতি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। যদি বন্ধ না করা হয় তাহলে এই আন্দোলন বৃহত্তর আন্দোলনে পরিণত হবে।’
নেতৃবৃন্দ সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, অবিলম্বে ফারজানা ইসলামকে অপসারণের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফেরৎ আনতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে যে দমন-পীড়ন চলছে তা বন্ধ করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরোও বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর যদি আর কোনো দমন-পীড়ন চালানো হয় তাহলে সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা জাহাঙ্গীরনগরের পাশে দাঁড়াবে এবং এই আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করবে।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস