লাখো মানুষের ভালোবাসায় অনুষ্ঠিত হলো জশনে জুলুস ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ)

লাখো মানুষের উপস্থিতি ও ভালোবাসায় উদযাপিত হলো পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জশনে জুলুস।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপলক্ষে চার দশকের বেশি সময় ধরে আয়োজিত ‘জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’ এখন চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর আরবি মাসের ১২ ই রবিউল আউয়ালের এ জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উদযাপিত হয়। এই দিন পৃথিবীতে মহানবীর (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগমন উপলক্ষে আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের তত্বাবধানে এ জশনে জুলুসের আয়োজন করে থাকে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও রোববার (১০ নভেম্বর) ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে জশনে জুলস বের করা হয়।

এ উপলক্ষে আজ রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকে দূরদূরান্তের ভক্তরা আসতে শুরু করেন ষোলশহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে। লাখো মানুষের এ জুলুসে অংশ নিতে হাজির হয়েছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ, স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র সহ সকল শ্রেনীর পেশাজীবি কর্মজীবি।

এবার জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া সিরিকোট শরিফের সাজ্জাদানশিন আওলাদে রাসূল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (মজিআ)। উপস্থিত থাকবেন শাহজাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ হামেদ শাহ (মজিআ)। জামেয়া আহমদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকাহ থেকে সকাল ৯টায় জুলুস বের হয়েছে।

আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উপদেষ্টা, পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক সুফি মিজানুর রহমান জানান, বিবিরহাট, মুরাদপুর, মির্জাপুল, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, প্যারেড কর্নার, সিরাজউদ্দৌলা সড়ক, আন্দরকিল্লা, চেরাগি পাহাড়, প্রেসক্লাব, কাজীর দেউড়ি, আলমাস, ওয়াসা, জিইসি, মুরাদপুর হয়ে জুলুস জামেয়া মাদ্রাসা মাঠে মিলিত হবে। কাজীর দেউড়ি মোড়ে অস্থায়ী মঞ্চে হুজুর কেবলা বক্তব্য দেবেন ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করবেন। এরপর জুলুস মাদ্রাসা মাঠে ফিরবে। সেখানে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে জশনে জুলুসের অনুষ্ঠান শেষ হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও পবিত্র জুলুস হিসেবে সকলের প্রিয় ও পরিচিত ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লামা হাফেজ সৈয়্দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহঃ)’র নির্দেশ ও রূপরেখা অনুসারে এ ১৯৭৪ সনে (১৩৯৪ হিজরি) ১২ রবিউল আউয়াল চট্টগ্রামে শুরু হয়। সেদিন সকালে আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ নূর মুহম্মদ আল কাদেরীর নেতৃত্বে কোরবানিগঞ্জসহ বলুয়ার দিঘীপাড় খানকাহ্-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া হতে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ শেষে ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে এসে ওয়াজ, মিলাদ ও মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছিল জুলুসটি। ১৯৭৬-১৯৮৬ সাল পর্যন্ত এর নেতৃত্বে ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা হফেজ সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র)। ১৯৮৭ সাল হতে অন্তত ৩৩ বার এর নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁরই শাহজাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহম্মদ তাহের শাহ্ (ম.জি.আ.)।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর