কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের চরপলাশ গ্রাম। সকাল ৮টার আগেই হাজারো নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভরে ওঠে ওই বিশাল একটি মাঠ। আসবেন কাঠুরিয়া কবিরাজ সবুজ মিয়া, সে উপলেক্ষে মাঠে মঞ্চও তৈরি করা হয়।
জানা যায়, কাঠুরিয়া কবিরাজের ঝাড়ফুঁকের পানি খেলে, তেল মালিশ করলে সব রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে এবং মনোবাসনা পূরণ হবে এমন অন্ধ বিশ্বাস থেকে সেখানে উপস্থিত হন হাজার হাজার নারী-পুরুষ। ভক্তদের অনেক অপেক্ষার পর বেলা ১১টার দিকে কাঠুরিয়া কবিরাজের আগমন বার্তা মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়।
মঞ্চে উঠে কাঠুরিয়া কবিরাজ উপস্থিত লোকজনকে ধৈর্য ধরে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। কিছুক্ষণ পর সমাগত নারী-পুরুষদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ও পানি ফুঁ দেন।।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কয়েকজনের প্রোফাইল অনুসন্ধান করে দেখা যায় ১৫ দিন আগেই গত ২৫ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়েছিলো এই কবিরাজ সবুজ মিয়া। ওইদিন সকাল ৭ টার দিকে জেলার হোসেনপুর উপজেলার আর ডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এভাবেই জরো হয় পানিপড়া নিতে জরো হয়। একটি ভিডিওতে দেখা যায় স্থানীয় যুবকদের সাথে তার ধস্তাধস্তিরও ঘটনা। তারপর হোসেনপুর থানা পুলিশ তাকে ওইখানেই আটক করে। কিন্তু তাকে আর নিয়ে যেতে পারেনি তার ভক্তদের কারণে। তাকে ছাড়ার কিছুক্ষন পর সে ওইস্থান ত্যাগ করে।
ঠিক ১৫ দিন পর উপজেলা পাল্টে পাশেরই জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার চরপলাশ গ্রাম আবারও এসে তার আমন্ত্রণ ঘটে।
সবুজ মিয়া নামের ওই কবিরাজের বাড়ি ভালুকা উপজেলার রাজ্য ইউনিয়নের পায়লাব গ্রামে। তিনি বনে কাঠ কেটে জীবিকা নির্বাহ করেন। সপ্তাহে চারদিন কাঠ কাটেন এবং তিনদিন কবিরাজি করেন।
এ ঘটনার পর বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবীদগণ মনে করছেন এভাবে মাইকে ফুঁ দেয়া প্রতারণা ও শিরকের শামিল।
ভিডিও……..
১৫ দিন আগেই হোসেনপুরে জনতার ধাওয়া খেয়েছিলো এই কাঠুরিয়া কবিরাজ
১৫ দিন আগেই হোসেনপুরে জনতার ধাওয়া খেয়েছিলো এই কাঠুরিয়া কবিরাজ
Gepostet von Barta Bazar am Sonntag, 10. November 2019