সাংবাদিক নেতাদের শিবির সাজানোর প্রতিবাদে জাবিসাসের নিন্দা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জাবিসাস) নেতাদের নাম জড়িয়ে যমুনা টেলিভিশন, একুশে টেলিভিশন এবং নিউজ২৪ চ্যানেলে জাবিসাসের সভাপতি, সেক্রেটারি ও একজন কার্যকরি সদস্যের বিরুদ্ধে শিবিরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করে সংবাদ প্রচার করেন। সেই প্রচারিত সংবাদকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে জাবিসাস।

জাবিসাসের দপ্তর ও প্রকাশনা সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সীমান্তের লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলা হয়। এছাড়া ওই প্রতিবেদনে ক্যাম্পাসে কর্মরত আরও পাঁচজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘অস্থিতিশীল করতে’ কথিত এক ‘শিবির নেতাকে’ সহযোগিতা করেছেন।

প্রতিবেদনের বিষয়ে জাবিসাস বলেন- এসব প্রতিবেদন একেবারেই মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সম্পূর্ণ একই ধরনের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন তিনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়, একটি কুচক্রী মহলের সরবরাহকৃত মিথ্যা তথ্যের উপর ভিত্তি করে এসব প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট ‘তথ্যসূত্র’ উল্লেখ না করে শুধু বলা হয়েছে ‘গোয়েন্দা তথ্য নির্ভর’, যা ঐ প্রতিবেদনের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে এবং একই সাথে জনসাধারণের কাছে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করেছে।

লিখিত বক্তব্যে আরেও বলা হয়, প্রচারিত সংবাদ তিনটিতে জাবিসাস নেতাদের নামে অভিযোগ করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য নেয়া হয়নি। যা স্পষ্টভাবে সাংবাদিকতার নৈতিকতার পরিপন্থী। এছাড়া কথিত ঐ শিবিরের বিষয়ে প্রশাসন থেকে করা ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। কোন প্রকার তদন্ত প্রতিবেদন ও সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া সাংবাদিকদের জড়িয়ে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত । এর মাধ্যমে প্রতিবেদনগুলো যে একটি কুচক্রী মহলের গভীর ষড়যন্ত্রের ফল তা প্রকটভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে তারা দাবি করে, জাবিসাস বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের একটি ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠন। গঠনমূলক ও আপোসহীন সংবাদ লেখনীর জন্য এর সুনাম সুবিদিত। জাবিসাসের প্রাক্তন অনেক সাংবাদিক জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সুনামের সাথে সাংবাদিকতা করে যাচ্ছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের এই পর্যায়ে এসে অন্যায়ের সাথে আপোসহীন এরকম একটি প্রতিষ্ঠানের যেসব সদস্যের নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে শিবির সংশ্লিষ্টতার যে অপবাদ দেয়ার চেষ্টা চলছে তা দুরভিসন্ধিমূলক ও মানহানিকর। প্রচারিত সংবাদে বিপক্ষে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তারা এমন কোনো সংবাদ প্রচার বা কাজের সাথে জড়িত নেই, যার দ্বারা প্রমাণ করা যায় যে তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার কোনো চেষ্টা করেছে।

এছাড়াও লিখিত বক্তব্যে আরোও বলা হয়, কথিত ‘শিবির সংশ্লিষ্টাতা’র প্রমাণ স্বরূপ কিছু বানোয়াট ও মিথ্যা স্ক্রিনশট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে অপপ্রচার ও ব্লেইম গেইম চালানোর চেষ্টা করছে। আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং না জেনে এসব মিথ্যা প্রচার করা থেকে সকলকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান করছে জাবিসাস।

তারা আরোও দাবি করেন, জাবিতে চলমান অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে অপরিকল্পিতভাবে কয়েকশ’ গাছ কাটা ও ঈদ সেলামির নামে টাকা ভাগাভাগির বিষয়ে গত ২২ আগস্ট উপাচার্যের কার্যালয়ে বক্তব্য নিতে গেলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের উপস্থিতিতে উপাচার্যের সমর্থক শিক্ষকরা দুইজন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করেন। এসময় উপাচার্য তাদের দেখে নেয়া ও বহিষ্কারের হুমকিও দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাবিসাসের সদস্যরা উন্নয়ন প্রকল্পের নানাবিধ ত্রুটি ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তথ্য-প্রমাণ সহকারে গণমাধ্যমে তুলে ধরে। ফলে একটি স্বার্থান্বেষী মহল জাবিসাসের সদস্যদের উপর রুষ্ট হয়।তাদের ধারণা, এই মহলটিই অপপ্রচারের আশ্রয় নিয়ে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে বিভিন্ন অপবাদ নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে।

তারা আরো বলেন, জাবিসাস গঠনমূলক সাংবাদিকতা এবং সত্য প্রকাশ করার বিষয়ে বদ্ধপরিকর। কোনো মিথ্যা অপবাদ-অপপ্রচারের কাছে জাবিসাস মাথা নত করবে না।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর