সাতক্ষীরায় ২৭০ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১ লাখ ২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন

ঘূর্নিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে সাতক্ষীরায় শনিবার দিনভর ছিলো বৃষ্টির সাথে সাথে ঝড়ো হাওয়া। আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে ১০ নং মহাবিপদ সতর্ক সংকত দেখিয়ে যেতে বলা হয়। পুলিশ, বিজিবি, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে গঠিত টিম সন্ধ্যা পর্যন্ত উপকুলবর্তী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন। উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগরে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী।

জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এস.এস মঝস্তফা কামাল জানান, ক্ষয়ক্ষতি কমানা ও জানমালের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর ১০০ সদস্যের একটি টিম উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার ২৭০ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১ লাখ ২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগ কবলিতদের সহায়তায় ৩১০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ২৭ হাজার পিস পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট ও পর্যাপ্ত ওষুধপত্র মজুদ রাখা হয়েছে।

একই সাথে দুর্যোগ পূর্ববর্তী, দূর্যোগ কালীন এবং দূর্যোগ পরবর্তী তিন স্তরের প্রশিক্ষিত ২২ হাজার স্বেছাসেবকসহ ৮৫ টি মেডিকেল টিম প্রস্তত রয়েছে। এছাড়া শিশুদের জন্য ১ লাখ টাকা ও গবাদি পশুর জন্য আরো ১ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও খালে থাকা নৌযানগুলিকে উপকূলবর্তী নিরাপদ স্থলে আনা হয়েছে। হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে সার্বক্ষনিক খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানা গেছে, সাতক্ষীরার দুটি বিভাগের আওতায় ২৫০ কিলোমিটার বেঁড়িবাধ ঝুকিপূর্ণ রয়েছে। বুলবুলের জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে যদি ৭ ফুট উচ্চতায় হয় সেক্ষেত্রে এসব বেড়িঁবাধ রক্ষা করা সম্ভব হবেনা বলে জানা গেছে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের উপ-পরিচালক জুলফিকার অলী জানান, দুপুর পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ২৯ মিলি লিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, এখনও পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ১০ নং মহাবিপদ সংকেত চলছে।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর