ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের অন্যরকম দিন!

একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকে নানা ধরনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন। তবে এসব সংগঠনের মাধ্যমে পেশাগত জীবনের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকে খুব কম। ক্যাম্পাসে এসব সংগঠনগুলো থেকে একটু ব্যতিক্রম ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো। এসব সংগঠনের সদস্যরা পড়াশোনার পাশাপাশি সাংবাদিকতা পেশার দক্ষতাও অর্জন করেন বেশ ভালোভাবেই। আর এসব দক্ষতা অর্জনের জন্য তাদের করতে হয় অনেক ত্যাগ। ক্যাম্পাসের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় সবসময়। এই অনলাইন সংবাদমাধ্যমের যুগে ক্যাম্পাস সাংবদিকদের অবসরের ফুসরত একেবারেই নেই বললেই চলে।

ব্যস্ত এসব ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের জন্য অন্যরকম একটি দিন ছিলো গত ২৪ অক্টোবর। দিনটি ছিলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের অন্যতম সংগঠন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির (রুরু) জন্মদিন। ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি হাটি হাটি পা পা করে এদিন পূর্ণ কওে ১৮ বছর। কৈশোর থেকে তারুণ্যে পা দেয়া এ সংগঠনটির জন্মদিনের সংগঠনটির সদস্যরা যেন একট পেশাগত চক্রের বাইরে আসার সুযোগ পেলেন।

দিনের শুরুটা হয় কেক কাটার মাধ্যমে। এসময় ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিলনমেলা হয়ে উঠে রুরু কার্যালয়। ভিন্ন আদর্শে চলা এসব সংগঠনগুলোকে প্রায়শই দেখা যায় মুখোমুখি অবস্থানে। কিন্তু রুরু’র জন্মদিন যেন হয়ে উঠে তাদের এক কাতারে দাঁড়ানোর প্ল্যার্টফরম। এর পর বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের মূল পর্বে উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানসূচির সবচেয়ে আকর্ষণীয় সংযোজন ছিলো র‌্যালি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর টি-শার্ট গায়ে জড়িয়ে বাদ্যের তালে তালে নেচে গেয়ে ক্যাম্পাসের প্রধাণ প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। পরে র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্যারিস রোড প্রদক্ষিন করে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ সিনেট ভবনে এসে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানসূচির পরের অংশে ছিলো আলোচনা সভা। যেখানে ক্যাম্পাসের অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরাও অংশ নেন। ‘আগামী দিনের সাংবাদিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ বকুল।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ব। রাষ্ট্রের অন্য তিনটি স্তম্ব যদি দুর্বল হয়ে যায় সেক্ষেত্রে সংবাদ মাধ্যম সেগুলোকে প্রভাবিত করে। এবং সুষ্ঠুভাবে চলতে পথ প্রদর্শন করে। তাই রাষ্ট্র সঠিকভাবে পরিচালিত হবার জন্য সংবাদ মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকা জরুরী। সাংবাতিকতাকে ‘ওয়াচ ডগ’র সাথে তুলনা করা যেতে পারে। পালিত কুকুর যেমন বাড়ি পাহাড়া দেয় তেমনি সংবাদকর্মীরা রাষ্ট্রের দেখাশুনা করে।

আগামী দিনের সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, এখন সকল পত্রিকা অনলাইন নির্ভর হয়েছে। এতে করে তাৎক্ষণিকভাবে যেকোন তথ্য পাওয়া সম্ভব। পত্রিকাগুলো অনলাইন ভিত্তিক হওয়ার কারণে প্রিন্ট পত্রিকার প্রবণতা কমতে শুরু করেছে। অনলাইনের প্রভাবে আমেরিকায় একসময় দুই হাজার পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়। তাই সামনের সংবাদ সংগ্রহ থেকে শুরু করে পেশাগত দিক থেকে বিভিন্ন ধরণের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘দিনের পর দিন সংবাদ মাধ্যমে পরিবর্তন আসলেও সাংবাদিকতা রয়েই গেছে। ভবিষ্যতেও সাংবাদিকতা থাকবে হয়ত বা শুধু সংবাদ মাধ্যম পরিবর্তন হয়ে নতুন মাত্রার গণমাধ্যম আসবে। সংবাদ মাধ্যম যে মাধ্যমেই হোক না কেন একজন সাংবাদিককে অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।’

আলোচকদের এসব দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা আগামীদিনে তাদের পেশাগত জীবনের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর একটি গ্রুপ ছবির মাধ্যমে এই পর্বের সমাপ্তি হয়।

সারাদিনের এতসব কর্মসূচির কাটতে সন্ধ্যায় সংগঠনটির কার্যালয়ে বসে সাবেক বর্তমান সদস্যদের আড্ডা। যেটিকে আসলে সাবেক-বর্তমানদের মিলনমেলা বললেও কম বলা হবে। গানে-গল্পে জমে ওঠে আড্ডা। এভাবেই কেটে যায় ৩ ঘন্টা। এরপরে রাতের খাবার খাওয়ার পর সমাপ্তি হয় পেশাগত দায়িত্বের বাইরে এসে আনন্দপূর্ণ একটি দিনের।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।