দূর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতা বাড়াতে মহড়া

কলাপাড়া উপজেলা সমুদ্র সান্নিধ্য হওয়ায় এবং জলবায়ূ পরির্বতনে বিরূপ প্রভাবে ঝড় জলোচ্ছাসের মত প্রাকৃতিক দূর্যোগের অধিক ঝুঁকিতে এ উপজেলার প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ প্রাকৃতিক দূর্যোগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করেন এবং থাকে এক অজানা আতঙ্কে।

গতকাল বুধবার শেষ বিকালে কলাপাড়ার দূর্যোগ কবলিত মানুষকে সচেতন করতে সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ মাঠে এ মাঠ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

এ মহড়ায় কলেজ মাঠে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য দিয়ে ছবির মতো করে সাজানো হয় একটি সুন্দর গ্রাম। সহায় সম্পদে স্বাবলম্বী এই গ্রামের মানুষগুলো হাসি আনন্দে দিন কাটাচ্ছে।

কিন্তু দূর্যোগ বিষয়ে তাদের ধারণা না থাকায় হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় গোটা গ্রাম। ঘটে হতাহতের ঘটনা। এটা বাস্তবে নয়, নাটকের মাধ্যমে এই দূর্যোগের ভয়াবহতা তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করতে গণসচেতনতামূলক এ মাঠ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থী, ব্রাক কর্মীরা। কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা মাঠমহড়ায় সার্বিক সহযোগিতা করেন।

ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা ও মহাসেন তান্ডবে কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টার থাকলেও দূর্যোগকালীন সময়ে এ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে না যাওয়া এবং অনেকেই আবহওয়ার সংকেত সম্পর্কে ধারণা না থাকার কারণে এখানকার দূর্যোগ ঝুঁকিতে থাকা প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ দূর্যোগ হলেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সচেতনতার অভাবে। এ দূর্যোগ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে বুধবার (৬নভেম্বর) ব্রাক হিউম্যানিটেরি প্রোগ্রাম এর অর্থিক সহায়তায় কলাপাড়া উপজেলা সিপিপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই মাঠ মহড়া। যেখানে একটি সুখী গ্রামের মানুষ শুধু দূর্যোগ বিষয়ে জ্ঞান না থাকায় কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মাঠ মহড়ার মাধ্যমে তা তুলে ধরা হয় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে।

মাঠ মহড়ার প্রধান অতিথি কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম রাকিবুল আহসান বলেন, দুর্যোগের সময় সচেতন না হলে কী পরিণতি হয় মহড়ার মাধ্যমে তা তুলে ধরা হয়েছে। সবাই সচেতন হলে কলাপাড়ায় দূর্যোগকালীন সময়ে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানী কমে যাবে।

কলাপাড়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো, মনিবুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কলাপাড়া পৌর সভার মেয়র বিপুল হাওলাদার,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম বাবুল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহীনা পারভীন সীমা, ব্রাকের দূর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং মানবিক সহনশীলতা কর্মসূচী বিশেষজ্ঞ বিথুম মাজিদ, সিপিপির উপজেলা টীম লীডার মোতালেব হাওলাদার প্রমুখ।

ব্রাকের বিথুম মাজিদ বলেন, দূর্যোগ ঝুঁকি নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করে মানুষের মধ্যে সচেতন সৃষ্টি করতে পারলে দূর্যোগে ক্ষতি কমে আসবে।
কলাপাড়া উপজেলা সিপিপি’র সহকারি পরিচালক মো. আছাদ উজ্জামান খান বলেন. নভেম্বর মাসে ঝড়ের সম্ভাবনা থাকে। তাই মানুষকে সচেতন করার জন্য তারা এই গণসচেতনতামূলক মাঠ মহড়া করে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। কলাপাড়ার ১২টি ইউনিয়নে সিপিপির সেচ্ছাসেবকরা দূর্যোগ যেকোন মোকাবেলা জন্য তৈরি আছে।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর