‘কল রেকর্ড চেক করলে দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে’- ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি জাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হামজা রহমান অন্তর দাবী করে বলেন, ‘উপাচার্য ফারজানা ইসলাম, পুত্র প্রতীক, স্বামী আখতার হোসেন এবং জাবি ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট মোঃ জুয়েল রানা, সাধারন সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল, জয়েন্ট সেক্রেটারী সাদ্দাম হুসেইন, ভাইস প্রেসিডেন্ট নিয়ামুল হাসান তাজ এর ৮,৯,১০ আগস্টের কল রেকর্ড সিম কোম্পানির থেকে বের করলেই দুর্নীতির অকাট্য প্রমান পাওয়া যাবে।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, এসব বের করা তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ১০ মিনিটের ব্যাপার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুনাম নষ্টকারী জাবি ভিসি ও ভিসিলীগের সকল অপকর্মের প্রমান আছে এসব কল রেকর্ডে।

বৃহস্পতিবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই প্রেক্ষিতে হামজা রহমান অন্তর এসব কথা জানান।

এর পূর্বে একটি ফেইসবুক স্ট্যাটাস হামলার দ্বায় ছাত্রলীগের নয়, শুধু ভিসিলীগ জুয়েল রানার বলে দাবী করেন। স্ট্যাটাসটি আরও বলা হয়, ‘সে এখন স্রেফ একটা ভিসিলীগ।’ তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর ভিসিলীগের হামলার তীব্র নিন্দা এবং দুর্নীতিবাজ ভিসির সাথে জুয়েলের বহিষ্কারও দাবি করেন।

মঙ্গলবার আন্দোলকারীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনার পর পরই এই স্টাটাস দেন।

পাঠকের সুবিধার্থে স্টাটাসটি তুলে ধরা হলো:

এই হামলার দায় ছাত্রলীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের নয়, ভিসিলীগের সভাপতি জুয়েল রানার একার। এই নারকীয় হামলার মাধ্যমে সবচেয়ে জনপ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাবি শাখার সভাপতি পদে থাকার নৈতিক ও গঠনতান্ত্রীক অধিকার হারিয়েছে জুয়েল। সে এখন স্রেফ একটা ভিসিলীগ।

জাবি ছাত্রলীগকে সারাবাংলার ছাত্রসমাজের কাছে বিতর্কিত করার শিবিরীয় এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে অবৈধ সভাপতি জুয়েল রানা। সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল যেখানে বহুমাস ধরে ক্যম্পাসে থাকে না লাপাত্তা হয়ে আছে সেখানে জুয়েল কি করে বৈধ সভাপতি থাকে। সংগঠন কি এক জুয়েলের বাপের? জুয়েলের বাবার রাজনৈতিক পূর্ব পরিচয় এবং জুয়েলের কলেজ জীবনের পূর্ব পরিচয় তদন্ত করে জাতীর সামনে তুলে ধরা হোক। কুলাঙ্গার জুয়েল ভিসির দুর্নীতির টাকায় ব্যক্তিগত সুযোগ সুবিধা নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ছন টিনের ঘর রাতারাতি পাকা করে ফেলেছে।

বাড়িতে রেট দিলে নিশ্চিতভাবে টেন্ডারবাজীর কোটি কোটি অবৈধ টাকা পাওয়া যাবে। সাধারণ নেতাকর্মীরা পাঁচ-ছয় বছর রাজনীতি করেও পরিচয় দেওয়ার মত কোন পদ তো পায় না বরং সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জাবি ছাত্রলীগের ইাতহাসের সবচাইতে ব্যর্থ কমিটির সফলতা শুধুমাত্র টেন্ডারবাজীতে ও নিয়োগ বানিজ্যে। সেসবও সভাপতি আর সম্পাদক একাই করতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ টি আবাসিক হল ইউনিটের একটি হলের কমিটিও দিতে পারেনি। শত শত নেতাকর্মী বঞ্চিত-অবেহেলিত।

আজ জুয়েল শুধুমাত্র জাবির উন্নয়ন প্রকল্পের সহস্রাধিক কোটি টাকা থেকে আরও বড় অংক হাতানোর জন্য তিন বছর নির্লজ্জভাবে সভাপতির পদ দখলের পর আরও দুই-তিন বছর পদে থকার জন্য প্রকাশ্যে ভিসির গুন্ডা সেজেছে, জাবি ছাত্রলীগকে কলঙ্কিত করেছে।

সাধারণ নেতাকর্মীরা পরিস্তিতির স্বীকার, তাদের কোন দোষ নেই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এই হামলার দায় নিবেন না। তারা এই ঘটনা ঘটার আগে থেকে জুয়েলকে নানা ভাবে সতর্ক করেছেন। ছাত্রলীগ কখনোই সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরোধী কোন সংগঠন নয়। ছাত্রলীগ জন্মগতভাবে একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্রবান্ধব ছাত্রসংগঠন। শিক্ষার্থীদের যেকোন নৈতিক দাবির সাথে ছাত্রলীগ অতীতের মত সবসময় পাশে আছে।

ভুল নেতৃত্বের দায় কখনই ছাত্রলীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের নয়। এ দায় শুধুমাত্র নির্দেশদাতা জুয়েলের একার। তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর ভিসিলীগের হামলার তীব্র নিন্দা এবং দুর্নীতিবাজ ভিসির সাথে জুয়েলের বহিষ্কার দাবি করে।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর