৪৮ বছরেও চালু হয়নি আপারেশন থিয়েটার, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি

মাধবপুর উপজেলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ৪৮ বছরেও চালু হয়নি আপারেশন থিয়েটার। নেই কোনো কনসালট্যান্ট চিকিত্সক ও টেকনেশিয়ান। জরুরি প্রসূতি সেবাসহ অপারেশন সুবিধা না থাকায় প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মাধবপুর উপজেলার বাসিন্দারা।

হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী বলেছেন, মাধবপুরে অ্যানেসথেসিয়া ও গাইনি কনসালট্যান্ট নিয়োগের মাধ্যমে অপারেশন থিয়েটার চালুর চেষ্টা চলছে ।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭২ সালে। এর পূর্বে থানা রোডের পুরাতন হাসপাতাল বলে পরিচিত ছোটো ঘরটিতেই চিকিত্সার কার্যক্রম চলত। ২০১০ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।

৫ কোটি টাকা ব্যয়ে অপারেশন থিয়েটারসহ সংযোগ ভবন নির্মাণ করা হয়। সরবরাহ করা হয় অত্যাধুনিক মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি। হাসপাতালে কর্মরত লোকজন জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মেডিক্যাল যন্ত্রপাতিগুলো ব্যবহার না হওয়ায় অকেজো হয়ে পড়ছে।

মাধবপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা ও ঐ হাসপাতালের সাবেক করণিক নুরুল ইসলাম জানান, কারো সিজারের প্রয়োজন হলে মাধবপুর হাসপাতালে অপারেশনের সুযোগ না থাকায় হবিগঞ্জ জেলা সদর অথবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারের হাসপাতালে যেতে হয়। তিনি বলেন, মাধবপুর হাসপাতাল ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে কিন্তু এখনো ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু হয়নি।

মাধবপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার অজিত পাল বলেন, অতিদরিদ্র লোকদের সিজারের প্রয়োজন হলে প্রাইভেট ক্লিনিকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বিল দিতে হয়।

হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য সুকোমল রায় জানান, এ হাসপাতালে কোনো কনসালট্যান্ট চিকিত্সক, টেকনেশিয়ান না থাকায় কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অপারেশনের ব্যবস্থা নেই। জনগণ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। অপরদিকে, অপারেশন থিয়েটারের কোটি টাকার মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে। পরিচালনা কমিটির গত সভায় এ বিষয়গুলো আলাপ হয়েছে বলে তিনি জানান।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এ এইচ এম ইশতিয়াক মামুন জানান, হাসপাতালে চিকিত্সকসহ জনবলের সংকট রয়েছে। সবই আছে শুধু অ্যানেসথেসিয়া ও গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় মাধবপুর হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার চালু করা যাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, অপারেশন থিয়েটারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়ায় অকেজো হয়ে পড়ছে। হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী জানান, শুধু মাধবপুর ও হবিগঞ্জ জেলায় নয় সারা বাংলাদেশে উপজেলা পর্যায়ে চিকিত্সক সংকট নিরসনে সরকারি উদ্যোগ রয়েছে। নতুন বিসিএসের মাধ্যমে চিকিত্সক সংকট দূর হবে। মাধবপুরে অ্যানেসথেসিয়া ও গাইনি কনসালটেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে অপারেশন থিয়েটার চালুর চেষ্টা চলছে।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর