আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলায় রাজনৈতিক দলের সকল সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে অনিদিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এ আদেশ জারি করা হয়। যদিও এর আগে একইদিন সকাল ১১টায় শুধুমাত্র হরিপুরের চাপধা বাজার এলাকা ও তার আশপাশে ১৪৪ ধারি করে প্রশাসন।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দীর্ঘ দিন ধরে জেলার হরিপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের কমিটিতে সদস্য বাতিল ও অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। গতকাল বুধবার হরিপুর উপজেলার বকুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার থাকলেও গুটিকয়েক নেতাকর্মীকে সভায় ডাকাকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের লোকজন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে লাঠিসোটা নিয়ে মারমুখি অবস্থান নেয়।
টের পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত শুধুমাত্র বকুয়া ইউনিয়নের চাপদা বাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। কিন্তু তার পরেও দু’গ্রুপের নেতাকর্মীরা উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের রুপ নেয় বলে আশংকা করা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় করে বুধবার সন্ধ্যা থেকে হরিপুর উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে। তবে ১৪৪ ধারা শুধু রাজনৈতিক দলগুলো সভা সমাবেশের উপর, অন্যান্য সব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
হরিপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার আব্দুল করিম জানান, রাজনৈতিক সকল ধরনের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধের উপড় উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সকল ক্ষেত্রে চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
হরিপুর থানার ওসি আমিরুজ্জামান বলেন, পুলিশ তৎপর রয়েছে। যে কোন পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
উল্লেখ্য, হরিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে অনুমোদন ছাড়াই নতুন করে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করায় পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, দলের কিছু সুবিধাবাদী নেতার কারনে এ ধরনের পরিস্থিত সৃষ্টি হয়েছে। ত্যাগী নেতারা বাদ দিয়ে একটি পক্ষ গায়ের জোরে দলীয় সকল প্রকার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চায়। যারা দীর্ঘ দিন ধরে আওয়ামী লীগের হাল ধরে আছে তাদের বাদ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তারা।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস