আমিনুলের জোড়া আঘাত

১৫৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে ওপেনিং এ মাঠে আসেন রোহিত শর্মা এবং শিখর ধাওয়ান। বাংলাদেশের পক্ষ্যে বোলিংয়ে আসেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। প্রথম ওভারে ১১ রান দেন মুস্তাফিজ।

শুরু থেকেই টাইগার বোলারদের উপর চওড়া হন শিখরধাওয়ান এবং রোহিত শর্মা। সফিউল,মুস্তাফিজ,আলামিন, আমিনুল সবাই যেন আজ অসহায় রোহিত-ধাওয়ানের সামনে। ২৩ বলে ব্যাক্তিগত অর্ধশতক তুলে নেন রোহিত। ১০ম ওভারে আসেন মোসাদ্দেক।

মোসাদ্দেকের প্রথম তিন বলে ছক্কা হাঁকান রোহিত। রোহিত দুর্দান্ত ব্যাটিং করে গেলেও টিকে থাকতে পারেননি ধাওয়ান। দলীয় ১১৮ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ৩১ রান নিয়ে আমিনুলের বলে বিদায় নেন ধাওয়ান।

ধাওয়ানের পর বেশিক্ষন মাঠে থাকতে পারেননি রোহিত।দলীয় ১২৫ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ৪৩ বলে ৮৫ রান নিয়ে আমিনুলের বলে বিদায় নেন রোহিত। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ ১২.৪ ওভারে ২ উইকেটে ১২৬ রান।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু করে টাইগাররা। কিন্তু দুর্দান্ত ওপেনিংয়ের পর মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় দ্রুত চার উইকেট হারিয়ে কিছুটা হলেও বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ছয় উইকেটে ১৫৩ রান করতে সমর্থ হয় মাহমুদউল্লাহ বাহিনী।

প্রথম ৫ ওভারে বিনা উইকেটে ৪৮ রান করে শুভ সূচনা করেন নাঈম-লিটন। ১০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ হয় ৭৮ রান। কিন্তু ১৩তম ওভারে মুশফিক ও সৌম্য ফিরে যাওয়ার পর বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ভেঙে যায় টাইগারদের।

৮ম ওভারের দ্বিতীয় বলে রিশব প্যান্টের দুর্দান্ত থ্রোতে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে টাইগারদের। ১১তম ওভারের তৃতীয় বলে দলীয় ৮৩ রানে ফিরে যান শুরু থেকেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করা মোহাম্মদ নাঈম।

তখনও বড় স্কোরের স্বপ্ন ছিল টাইগার শিবিরে। আগের ম্যাচে অনবদ্য মুশফিক তখনও ক্রিজে। তার সঙ্গে সৌম্য সরকারের স্টাইলিশ ব্যাটিং টাইগার সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলেছিল। কিন্তু ১৩তম ওভারের প্রথম বলেই মুশফিককে সাজঘরে ফেরান চাহাল।

দলীয় ৯৭ রানের ব্যক্তিগত ৪ রান করে মুশফিক আউট হলে টাইগার সমর্থকরা সৌম্য সরকারের ওপর ভরসা করেন। কিন্তু একই ওভারের শেষ বলে সৌম্য প্যান্টের হাতে স্ট্যাম্পিং হয়ে সাজঘরে ফিরে যাওয়ায় বড় স্কোরের স্বপ্ন ভেঙে যায় টাইগারদের।

ঘরের মাঠে ভারত অপ্রতিরোধ্য দল, তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এখন পর্যন্ত ঘরের মাঠে তাদের হারাতে পারেনি কেউ। ২০১২ সালে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০-তে এগিয়ে ছিল। কিন্তু তিনটিতেই জয়ের স্বাদ পায়নি কেউ।

এবার সে সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। আজ ভারতকে হারাতে পারলে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিশ্চিত করবে তারা। সামনে নাগপুরে তৃতীয় ম্যাচে জয়ের আশা থাকবে।

এ ছাড়া আজকের ম্যাচে একটি দারুণ মাইলফলকের সামনে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। আজ ভারতের বিপক্ষে দুটি ছক্কা মারলে টি-টোয়েন্টিতে ছক্কার হাফ সেঞ্চুরি হয়ে যাবে মাহমুদউল্লাহর। এখন পর্যন্ত যে মাইফলক ছুঁতে পারেননি কোনো বাংলাদেশি।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ অস্থিরতার মধ্যে কেটেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। দলের ব্যর্থতা তো ছিলই, সেইসঙ্গে খেলোয়াড়দের বেতন-ভাতা নিয়ে আন্দোলন হয়। ভারত সফরের একদিন আগে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান নিষিদ্ধ হন। সব মিলিয়ে বেশ চাপের মধ্যে থেকেই ভারত সফরে যায় বাংলাদেশ দল।

অবশ্য ভারতে গিয়ে যেন সে পরিস্থিতি পাল্টেছে। চাপের মুখে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের জয়ে স্বস্তি ফিরেছে টাইগারদের ড্রেসিংরুমে। দ্বিতীয় ম্যাচে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর চোখে সাম্প্রতিক হতাশা নয়, বরং ভারতের মাটিতে প্রথমবার সিরিজ জয়ের স্বপ্ন।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর