সয়াবিনের রাজধানী লক্ষ্মীপুর

অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর মাটির কারণে লক্ষ্মীপুরে প্রতি বছর সয়াবিনের বাম্পার ফলন হয়। দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের ৮০ শতাংশ সয়াবিনই আসে লক্ষ্মীপুর থেকে। তাই এ জেলাকে ‘সয়াবিনের রাজধানী’ ও ‘সয়াল্যান্ড’ বলা হয়।
চলতি মৌসুমে জেলার ৪৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৪৮ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে। চাষিরাও সয়াবিনের পরিচর্যায় পার করছেন ব্যস্ত সময়।

চাষিদের কাছে সয়াবিন সোনা হিসেবে পরিচিত। তাই রবি মৌসুমে সোনা ফলাতে বিস্তীর্ণ জমিতে সয়াবিনের বীজ বুনেছেন তারা। মৌসুমের শুরুতে লাগানো বীজ এখন রূপ নিয়েছে পরিপূর্ণ চারাগাছে। ফুটেছে ফুলও।

সয়াবিন চাষি আরব আলী জানান, জমিতে রস থাকতে থাকতে চাষ দিতে হয়। আইল কেটে জমি সমান করতে হয়। জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয়। জমি শুকানোর পর বীজ বপন হয়। ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বীজ বপন চলে। গাছে ফুল এলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে পরিচর্যা করা হয়।

আরেক সয়াবিন চাষি জাফর আলী জানান, সয়াবিন আবাদে খরচ কম। রোগ ও পোকার আক্রমণ কম হয়। চাষাবাদ পদ্ধতি সহজ। ধানের চেয়ে সয়াবিনে লাভ বেশি। তাই অনেকেই ধানের পাশাপাশি সয়াবিন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আবুল হোসেন জানান, সয়াবিন সারাবছর চাষ করা যায়। তবে রবি মৌসুমে ফলন বেশি হয়। ৯৫-১১৫ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়। হেক্টর প্রতি দেড় থেকে আড়াই টন সয়াবিন উৎপাদন সম্ভব। এ বছর সয়াবিনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। কাঙ্খিত ফলন পেতে চাষিদের নিয়ে কাজ করছে কৃষি অফিস।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর