ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে প্রশ্ন তুলল যুক্তরাষ্ট্র

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। সফররত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস বলেছেন, এই আইনের কারণে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে সমাবেশ করার অধিকার খর্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেনের সাথে গতকাল মঙ্গলবার বৈঠকে এলিস ওয়েলস এসব ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কথা জানান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ড. মোমেন বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছি, বাংলাদেশে গণমাধ্যমের সংখ্যা প্রচুর। তবে জীবনে শৃঙ্খলা আনার জন্য কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সিনেমা হলে কোনো ব্যক্তি বোমার ভুয়া আতঙ্ক ছড়ালে নিশ্চয়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জননিরাপত্তার স্বার্থে তাকে সাথে সাথে গ্রেফতার করবে। তেমনি বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করে কেউ আতঙ্ক ছড়ালে বা উসকানি দিলে তাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ভোলায় ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা জানান। ওয়েলস বলেন, ভোলার ঘটনায় সাথে জড়িত ব্যক্তি সাংবাদিক ছিলেন না। তাই আইনটির যথার্থতা নিয়ে বাংলাদেশের সাথে দ্বিমত পোষণ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

সমাবেশ করার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে সমাবেশ করতে বাধা দেয়া হয়। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। সেখানে ১০০ জনের সমাবেশ ডাকলে প্রথমে একটি বীমা নিতে হয়। এরপর অন্তত তিনজন নিরাপত্তারক্ষী ভাড়া করতে হয়। এ সব নিশ্চিত করে সমাবেশের জন্য আগে থেকে অনুমতি নিতে হয়। বাংলাদেশেও সমাবেশের জন্য আগে থেকে অনুমতি নিতে হবে। এখানে বিমা বা নিরাপত্তারক্ষী ভাড়া বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ড. মোমেন জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে এই সঙ্কট নিরসনে সাহায্য করতে পারে।

জবাবে এলিস ওয়েলস বলেন, এই সঙ্কট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের নেয়া উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণভাবে সমর্থন দেবে। ব্যাংককে সদ্য সমাপ্ত আসিয়ান সম্মেলনে ইস্যুটি নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে আলোচনা হয়েছে। কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর বিষয়ে জানতে চেয়েছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ব্যাপারে ড. মোমেন জানান, কক্সবাজারে খুবই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রোহিঙ্গাদের থাকতে হচ্ছে, যেখানে ভূমিধসেরও আশঙ্কা রয়েছে।

এসব ঝুঁকি এড়িয়ে উন্নততর পরিবেশে রোহিঙ্গাদের থাকার ব্যবস্থা করতে সরকার কিছু রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করতে চাইছে। তবে জোর করে কাউকে ভাসানচরে পাঠানো হবে না। ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে সরকারের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি জানায়নি। তারা এ প্রক্রিয়ায় খরচের বিষয়টি জানতে চেয়েছে। কক্সবাজার ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শিশুদের পড়ালেখা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কথা জানান ওয়েলস। বঙ্গবন্ধু হত্যার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি উত্থাপন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওয়েলস বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারের কাগজপত্র চেয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের ইচ্ছার কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ চান ড. মোমেন। যুক্তরাষ্ট্র জানতে চেয়েছে চীনের বিনিয়োগ সহযোগিতা নিতে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন কি না। উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, না, আমরা অনেক চৌকস আছি। আমাদের সীমাবদ্ধতা বুঝি। যে দেশ আমাদের এখানে বিনিয়োগ করবে, তাকেই স্বাগত জানাব। আমরা বিনিয়োগের বৈচিত্র্য চাই। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের আওতায় বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগে আগ্রহের কথা জানান ওয়েলস। বৈঠকে মানবপাচার, শ্রম পরিস্থিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন নিয়েও আলাপ হয়েছে। এ সময় বিচারবহির্ভূত হত্যা বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক ক্রয় নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর