৭ শিক্ষকের ইন্ধনেই জাবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় প্রত্যক্ষ ইন্ধনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিপন্থী ৭ জন শিক্ষকের নাম উঠে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ ও হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,‘মঙ্গলবার পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে তার বাসভবনের সামনে অবস্থান করে দুর্নীতি বিরোধীরা। এদিকে আন্দোলনকারীদের অবস্থান থেকে সরিয়ে দিয়ে ভিসিকে বাসভবন থেকে বের করে ‘ভিসি অফিসে’ আনতে চায় ভিসিপন্থী শিক্ষকরা। এর আগে সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে একটি মৌন মিছিল নিয়ে ভিসি বাসভবনের সামনে যায় ভিসিপন্থী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এসময় তারা আন্দোলনকারীদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে বললে আন্দোলনকারীরা অস্বীকৃতি জানায়। এরপর আন্দোলনকারীদের উপর কয়েকজন কর্মচারীকে লেলিয়ে দেয় তারা। দীর্ঘ সময় টানাহেচড়া করে তারা ব্যর্থ হয়।ফলে যেকোন মূল্যে ভিসিকে বের করে আনতে আরো পেশিশক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করে তারা।

বেলা এগারোটায় শিবিরমুক্ত জাবি ক্যাম্পাসের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহীদ মিনারের পাদদেশে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে আন্দোলনকারীদেরকে ভিসিপন্থী শিক্ষক-কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি থেকে উঠাতে ব্যর্থ হলে কয়েকজন প্রভাবশালী শিক্ষক ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দকে মিছিল নিয়ে ভিসি বাসভবনের সামনে আসতে ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানাকে চাপ দেয় বলে জানায় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। ছাত্রলীগকে ডেকে আনতে মধ্যস্থতা করেছেন মাহমুদুর রহমান জনি ও অধ্যাপক বশির আহমেদ এবং আক্রমন ও আন্দোলন বানচালের কৌশলের বিষয়ে ছাত্রলীগের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেন প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবাল।

এরপর ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার নেতৃত্বে মিছিলটি ভিসি বাসভবনের সামনে যায়। সামনে গিয়ে দুই মিনিটের মতো রাস্তায় অবস্থান করেন। এসময় ভিসিপন্থী কয়েকজন শিক্ষক ছাত্রলীগের মিছিলকে হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানায় এবং ভিতরে আসতে জায়গা করে দেয়। রাস্তা থেকে ভবনের সামনে আসার সময় অধ্যাপক এ এ মামুন ও নুহ আলমসহ দশ থেকে বারোজন শিক্ষকে হামলার জন্য ছাত্রলীগকে জায়গা ছেড়ে দিতে ভিড়িওতে স্পষ্ট দেখা যায়। এই সুযোগে ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা,সহ-সভাপতি শামিম শিকদার, নাহিদ হোসেন,বায়েজিদ রানা কলিন্স, সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক মণ্ডল, ছাত্রলীগ নেতা নাঈম, রাফা, লায়েব আলীর নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে ছাত্রলীগ। প্রথমে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আলিফ, সাংস্কৃতিক জোটের মারুফ মোজাম্মেলকে মারধর, চড়থাপ্পর দিয়ে হামলা শুরু করে।

একে একে রাকিবুর রনি, মাহাথির মোম্মমদসহ সকল আন্দোলনকারীদের ওপর এলোপতাড়ি মারধর করে ছাত্রলীগ। মারধরের শিকার আন্দোলনকারীরা বলছে, শিক্ষকদের নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এতে সবচে’ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি থেকে শিক্ষক হওয়া মাহমুদুর রহমান জনি। দীর্ঘ সময় ছাত্রলীগ নেতারা চুপচাপ থাকলেও মঙ্গলবার মূলত মাহমুদুর রহমান জনির চাপাচাপিতেই মাঠে নামেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা। সাবেক সভাপতি জনির তদবিরের বদৌলতেই সভাপতি হতে পেরেছে জুয়েল রানা। ফলে সভাপতি হওয়ার পরও শিক্ষক জনির নিয়ন্ত্রণবলয় থেকে বের হতে পারেননি জুয়েল রানা।

হামলার ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের মারফত জানা যায়,‘হামলার সময় ভিসির বাসভবনের পাশে কোষাধ্যক্ষের বাসার সামনে ডেকে নিয়ে আন্দোলনকারীদের হটানোর পরামর্শ ও নির্দেশ দেয় অধ্যাপক বশির আহমেদ এবং প্রভাষক জনি। এরপর থেকে আরো সহিংসভাবে আক্রমন শুরু করে ছাত্রলীগ। হামলা ছাত্র-শিক্ষক, সাংবাদিক ৩৫জন আহত হয়। এছাড়াও ছাত্রলীগের মিছিলের সামনে নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে আসেন পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক আশরাফুল আলম।

এদিকে আন্দোলনকারী অধ্যাপক সাইদ ফেরদৌস ও কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হলে তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স আসে। তখন প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের ভিসিপন্থী অধ্যাপক আহতদেরকে অ্যাম্বুলেন্সে উঠাতে বাধা প্রদান করে এবং তাদে বলতে শোনা যায়,‘কোন ভিসি বিরোধীকে অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর দরকার নাই’।

এ বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষক অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন,‘এটি ভিসি বাহিনীর পরিকল্পিত হামলা। হামলা ও মারধরের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ যারা অংশগ্রহণ করেছে তাদের একটি লিস্ট আমরা ভিড়িও ফুটেজ, আহতদের এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যদ্বারা তৈরী করেছি।আমরা খুব শ্রীঘই তা প্রকাশ করে তাদেরকে বিচারের সম্মুখিন করবো।

-নয়া দিগন্ত

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর