জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত উপাচার্য ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলনের মাঠ ছাড়বে না বলে জানান দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও উপাচার্যের অপসারণের পাশাপাশি বরখাস্তের দাবি জানিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।
বুধবার বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরে আয়োজিত ‘সংহতি সমাবেশে’ এ এসব কথা বলেন ।
আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানান, হামলার ঘটনার পর অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে থাকতে পারেন না, পাশাপাশি শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করার অধিকার তিনি হারিয়েছেন। উপাচর্যের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তার তদন্তের দিকে যেতে তিনি ভয় পান । এসময় তারা ভিসির পতন না হওয়া পর্যুন্ত আন্দোলনের মাঠ ছাড়বে না বলেও ঘোষনা দেন ।
সংহতি সমাবেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের অন্যতম সমন্বয়ক দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, উপাচার্যের বিরুদ্ধ যে অভিযোগ উঠেছে তার তদন্ত অবশ্যই হবে। এখন অপেক্ষা তিনি শিক্ষক হিসেবে থাকবেন কিনা।
সংহতি সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাবির আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খানসহ প্রায় অর্ধশত শিক্ষক ও দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত আছেন।
উল্লেখ, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে আন্দোলনরতদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। হামলা চলাকালে উপাচার্যের বাসভবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশকে নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। এ ছাড়া উপাচার্যপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ‘ধর ধর’, ‘জবাই কর’ স্লোগান দিয়ে হামলায় উসকানি দিতে দেখা গেছে।
পরে বেলা ১টার দিকে পুলিশ, শাখা ছাত্রলীগ, প্রশাসনপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের কড়া পাহারায় নিজ গাড়িতে করে বাসভবন থেকে বের হন উপাচার্য। তাদের কড়া পাহারায় পুরনো প্রশাসনিক ভবনে নিজ কার্যালয়ে ৭-৮ মিনিট অবস্থান করেন তিনি। পরে সেখান থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
বার্তা বাজার/এম.সি