জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে জাবি’র সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৬ নভেম্বর) বেলা সাড়ে চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।
এদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বাসভবন ঘিরে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। হামলা ও হল ‘ভ্যাকেন্ট’ এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

প্রায় দুই শতাধিক আন্দোলনকারী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। এছাড়া তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন প্রায় ৩০ জন শিক্ষক। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের ঘিরে শতাধিক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে।
এদিকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য পুলিশ সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ রিজাউল হক দিপু।
গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এখানে একশ’র উপর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’
হল বন্ধ ঘোষণা করার প্রেক্ষিতে কোন অভিযান চালানো হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে আমরা যেকোনো ধরনের সহায়তা করবো।’
একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। তবে মিছিলের শুরুতে মিছিলটি ছাত্রীদের হলের দিকে গেলে হল থেকে ছাত্রীরা বেরিয়ে এসে মিছিলে যোগ দেন। মিছিল থেকে উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে নানা স্লোগান দেয়া হয়।
মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্রী হল ঘুরে পরিবহন চত্বর হয়ে মুরাদ চত্বরে গিয়ে সমাবেত হয়। এতে আন্দোলনকারী শিক্ষকরাও যোগ দেন।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মুসফিক-উস-সালেহীন জানান, উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে ও হল বন্ধে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত তারা মানবেন না।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার চলমান উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এতে শিক্ষকসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন।
এরপর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ও বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর হল ছাড়ার সময়সীমা কয়েক দফায় পরিবর্তন করা হয়। সর্বশেষ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে হল ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায় প্রশাসন।
তবে আন্দোলনকারীরা হল খালি করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তারা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখতে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। তারা বলছেন, উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এর আগে তারা ক্যাম্পাস ছেড়ে যাবেন না।
এর আগে, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা।
বার্তা বাজার/এম.সি